রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের নতুন পরিবেশ তৈরি করতে হলে তোলাবাজি ও কাটমানির সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তাঁর কথায়, এবারের বাজেটে সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য পরিকল্পনা রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদের সমালোচনার বিশেষ সুযোগ নেই।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটি মূলত চলতি অর্থবর্ষের বাকি আট মাসের জন্য প্রস্তুত করা বাজেট। সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্ণ ১২ মাসের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরির মতো পর্যাপ্ত সময় না থাকায় এই বাজেটকে অন্তর্বর্তী বাস্তবতার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে।
এবারের বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা হল নতুন ‘ভরসা কর্মসূচি’। সরকার জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় স্নাতক উত্তীর্ণ বেকারদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের ২,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম এবং যারা অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পান না, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়াবে, তেমনই প্রশাসনিক দক্ষতাও বৃদ্ধি করবে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। কলেজে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমাতে কলেজপড়ুয়া ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণাও বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ। বর্তমানে ১৮ শতাংশ ডিএ-র সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ যোগ করে মোট ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা সরকারি, আধা-সরকারি, শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ক্ষমতায় আসার পরই তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবারের বাজেট সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম বড় পদক্ষেপ বলে দাবি তাঁর।
সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, নারীশিক্ষা এবং সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা— এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই এবারের বাজেটের মূল বার্তা তুলে ধরেছে সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়নের গতির উপরই নির্ভর করবে সরকারের সাফল্যের মূল্যায়ন।



