অভিষেক ব্যানার্জীর ‘শান্তিনিকেতন’-এ চলবে বুলডোজার? বেআইনি নির্মাণে নোটিস কলকাতা পুরসভার

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ ও কালীঘাটের সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নোটিস পাঠাল কলকাতা পুরসভা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বাড়িতে এবার কলকাতা পুরসভার নোটিস। কালীঘাটের ‘শান্তিনিকেতন’ সহ একাধিক সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হয়েছে পুর প্রশাসন। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন নির্মাণ প্রমাণিত হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা ভেঙে ফেলতে হবে, নইলে পুরসভাই পদক্ষেপ করবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় বুলডোজার অভিযান শুরু হয়েছে। এবার সেই তালিকায় উঠে এল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও।

কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেকের বহুল পরিচিত বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ ইতিমধ্যেই নোটিস টাঙানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পুরসভা। যদিও ওই সম্পত্তি অভিষেকের মায়ের নামে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নথিতে সেটিকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরসভার তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলি অনুমোদিত নকশা মেনেই তৈরি হয়েছে কি না। যদি অতিরিক্ত অংশ নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্রের দাবি, নোটিসে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে বেআইনি অংশ নিজে থেকে ভেঙে না ফেললে পুরসভা সরাসরি পদক্ষেপ করতে পারে বলেও উল্লেখ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, এবার কি সত্যিই অভিষেকের বাড়িতে বুলডোজার চলবে?

এই ইস্যুতে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “নোটিস পাঠানো নিয়ে আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।” অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় কটাক্ষ করে বলেন, “যদি নোটিস পাঠানো হয়ে থাকে, তা হলে সঠিক কাজই হয়েছে।”

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসক দলের শীর্ষ নেতার সম্পত্তিতে পুরসভার এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর