আমফান ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিষ্ণুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। অভিযোগের অঙ্ক প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বলে দাবি তাঁর।
শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির দাবি, ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর কেন্দ্র থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে বিপুল ত্রাণ বরাদ্দ হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থ বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ববির দাবি, এই দুর্নীতির সঙ্গে তৎকালীন জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের একাংশের যোগ থাকতে পারে।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণুপুর ১ নম্বর ব্লকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতের জন্য ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেখানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৩১ হাজার হলেও সরকারি নথিতে ৩৪ হাজার ঘরের হিসাব দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া বিষ্ণুপুর ২ নম্বর ব্লকেও প্রায় ৩২ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির নামে টাকা তোলার ঘটনা ঘটেছে।
ববির দাবি, কোথাও একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিক উপভোক্তার অর্থ জমা পড়েছে, আবার কোথাও একই পরিবারের বহু সদস্যের নামে ত্রাণের টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এই সমস্ত তথ্য তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুধু বিষ্ণুপুর থানাতেই নয়, আগামী দিনে ডায়মন্ড হারবার এলাকার প্রতিটি থানায় একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। পাশাপাশি জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আবেদনও করা হয়েছে।
অভিযোগে তৎকালীন বিডিও, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান-উপপ্রধান, জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারী-সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের তদন্তের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।
এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একাধিক মামলার তদন্তের মুখোমুখি। বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলা এবং ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সম্প্রতি ভবানীভবনে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়েছে এবং আবারও হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইডি-র তরফেও তাঁকে নির্দিষ্ট দিনে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যেই আমফান ত্রাণ দুর্নীতি সংক্রান্ত নতুন অভিযোগ দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা অবশ্য তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।



