ভোররাতে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তালা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে পুলিশ, তবে দীর্ঘ তল্লাশির পর কোনও কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
শনিবার ভোর ৩টা নাগাদ শালবনি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়ির সামনে পৌঁছয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কলিং বেল বাজানো ও ডাকাডাকির পরও বাড়ির দরজা খোলা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৫টার দিকে তালা ভাঙার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের ডাকা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।
প্রায় ৯০ মিনিট ধরে তিনতলা থেকে ছাদ পর্যন্ত গোটা বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় শালবনি থানার পাশাপাশি কালীঘাট থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল। বাইরে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খোঁজা। শালবনি থানার একটি মামলার তদন্তে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সূত্রের খবর, জমি দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিতের নাম উঠে আসে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির আশপাশে দেখাচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই তল্লাশি চালানো হয়। তবে তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
তল্লাশি শেষে নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ একটি বাজেয়াপ্তির তালিকা তৈরি করে। সেই নথিতে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর ঘরে স্পষ্টভাবে ‘Nil’ লেখা রয়েছে। অর্থাৎ, অভিযান চালিয়েও কোনও বস্তু বা নথি উদ্ধার করা হয়নি।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সমাজমাধ্যমে ওই নথি প্রকাশ করে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখার কৌশলের অংশ।
অভিযানের খবর পেয়ে শনিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে যান। তল্লাশি পর্ব শেষ হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে ফিরে যান।
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তদন্তকারীরা তালা ভেঙে বাড়ির প্রতিটি অংশ খতিয়ে দেখেছেন এবং পুরো প্রক্রিয়া নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাউকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়নি বলেই তল্লাশিতে কিছু মেলেনি। ফলে এই অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



