নজরবন্দি ব্যুরো: নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে গেলে এখন শুধু মাঠ কাঁপানো ঝাঁঝালো বক্তব্য বা জনসংযোগের ওপর নির্ভর করে থাকলেই হয় না। প্রযুক্তির যুগে প্রয়োজন হয় আরও বেশ কিছু অনুষঙ্গ, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সমীক্ষা। আর সেসব কাজের জন্যও আছে বিশেষ সংস্থা, বিশেষ লোকজন। সহজেই বিষয়টি বোঝা যাবে যদি বলি দু’টি নাম- প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর সংস্থা ‘আই-প্যাক’। অর্থাৎ, রাজনৈতিক পরিভাষায় যাকে বলে ভোট-কুশলী। সে রকমই আসন্ন লোকসভার আগে একটি বেসরকারি ভোট-কুশলী সংস্থার দ্বারস্থ হতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি।
আরও পড়ুন: মমতাই বাংলার সান্তাক্লজ, বড়দিনের আগে কেন এমন দাবি ফিরহাদের


প্রশান্ত কিশোর বা পিকে এই নামটা রাজনৈতিক বিষয়ে ওয়াকিবহাল প্রায় সকলেই জানেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মসনদে বসানোর জন্য তাঁর সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর যে বেশ কিছুটা ভূমিকা ছিল তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সেই রকমই এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করবে একটি ভোট-কুশলী সংস্থা। যার নাম ‘জার্ভিস টেকনোলজি অ্যান্ড কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’।

জার্ভিস নামক সংস্থাটি মূলত মুম্বইয়ের। তাঁদেরকে লোকসভা ভোটের দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্র বিজেপি। রাজ্য নয়। সেই সূত্রেই তাঁরা বাংলায় এসে কাজ করবে। পরিসংখ্যান নিয়েই কাজ করার পাশাপাশি প্রচারে কোন এলাকায় কোন বিষয়ে জোর দিতে হবে বা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নানান খুঁটিনাটি ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে কিভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরে ভোটে বাজিমাত করতে হবে তাও ঠিক করে দেবে জার্ভিস। এছাড়া প্রার্থী নির্বাচনেও তাঁরা মতামত রাখতে বলেি সূত্রের খবর।

লোকসভায় বাংলা থেকে চাই ৩৫ আসন, কোন ভোট-কুশলী সংস্থার দ্বারস্থ বঙ্গ BJP?
এখন তাহলে একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসে যে, তাহলে কি রাজ্যের বিজেপি নেতাদের ওপর ভরসা নেই সর্বভারতীয় গেরুয়া নেতাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য বিজেপি নেতা বলেছেন, বিষয়টি একেবারেই তা নয়, শুধু বাংলায় এই ধরনের সংস্থা কাজ করবে না, করবে অন্যান্য রাজ্যেও। যদি বিপক্ষে অনেকে মনে করছেন, রাজ্যের নেতাদের পরিসংখ্যানে ভরসা করতে চায় না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।


কারণটাও খুব স্পষ্ট, একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও প্রায় জিতে গিয়েছি বলে যে আত্মাভিমান প্রকাশ পেয়েছিল দলের অভ্যন্তরে, পরবর্তীতে ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো। জানা যাচ্ছে, সল্টলেকের বিজেপির নতুন দফতরে অসেই কাজ করবে জার্ভিস। এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় আপাতত ১৭টি দফতর হবে। পরবর্তীতে ৪২টি কেন্দ্রে ৪২টি অফিস থেকে কাজ হতে পারে। অন্যদিকে, একুশের বিধানসভার মতোই একটি ‘কল-সেন্টার’ কাজ করবে বিজেপির হয়ে। সেই সংথার দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্যের সহ-সভাপতি সঞ্জয় সিংহ। সব মিলিয়ে, লোকসভায় বাংলা থেকে ৩৫ আসন জিতিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি।








