৪৩টি বাড়তি স্টাফ স্পেশ্যাল, যাত্রী বিক্ষোভ রুখতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা রেলের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৪৩টি বাড়তি স্টাফ স্পেশ্যাল, যাত্রী বিক্ষোভ রুখতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বাড়াল রেল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেন ভাঙার জন্যই রাজ্য জুড়ে কড়া বিধি নিষেধ চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কড়াকড়ির এক মাস পরে ব্যাবসা এবং একাধিক কারণের দিকে দিকপাত করে একাধিক বিষয়ে নিয়ম মেনে ছাড় দিয়েছে রাজ্য, একে একে খুলছে অফিস-দোকান পাট।

আরও পড়ুনঃ যোগীকে সরাতে ভরসা দিদি, ‘খেলা হবে’ স্লোগান নিয়ে ভোট ময়দানে সমাজবাদী পার্টি।

মে মাসে রাজ্যে করোনা বিধিনিষেধ চালুর পর থেকেই বন্ধ লোকাল ট্রেন পরিষেবা। যার ফলে শহরতলি থেকে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারছেন না বহু মানুষ। লোকাল ট্রেন পরিষেবা কবে শুরু হবে তা নিয়ে উদ্গ্রীব তাঁরা। এরই মধ্যে রেলের তরফে লোকাল ট্রেন চলাচল শুরুর আবেদন জানানো হয়েছে স্টাফ স্পেশালে ভিড় এড়াতে। কিন্তু নিজের ঘোষণায় অবিচল মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে ট্রেন চালানো নিয়ে গতকাল মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।  তিনি বলেন, “এখন রেল চালালে দুনিয়ার লোকে কোভিড ছড়াবে। অন্য জায়গায় কারফিউ হয়েছে। আমাদের তো দোকানপাট খোলা। সবজি বিক্রেতারা গাড়ি করে আসতে পারছে।” সুতরাং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন এখন লোকাল ট্রেন চলার কোন সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে, রাজ্য জুড়ে বন্ধ গণপরিবহন। ট্রেন চললেও তা স্টাফ স্পেশ্যাল। ফলে যাতায়াতে প্রবল কষ্টের মুখে পড়ছে দৈনিক যাত্রীরা। গতকাল লোকাল ট্রেন চালানোর দাবীতে বিক্ষোভ হয় সোনারপুর সহ একাধিক স্টেশনে। একে একে মল্লিকপুর, বেতবেড়িয়া, ঘুটিয়ারি শরিফ স্টেশনেও শুরু হয় অবরোধ। মল্লিকপুর স্টেশনে অবরোধ তুলতে গেলে রেলপুলিশের সাথে জনতার খণ্ডযুদ্ধে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। রেলপুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের দু’টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরও ছোঁড়া হয়। যার ফলে বেশ কয়েকজন জখমও হয়েছেন।

অবরোধকারীদের তাঁদের মূল দাবী এই কঠিন পরিস্থিতিতে দিনে দিনে ভাঙছে আর্থিক কাঠামো, টান পড়ছে রুজি-রুটিতে। এদিকে একে একে অফিস কাছারি খুলে দিচ্ছে, কিন্তু প্রত্যহ নিজের গাড়িতে করে দূরের অফিসে যাওয়ার সামর্থ্য নেই মধ্যবিত্তের। একমাত্র ভরসা রেলপথ বা বাস। সেসব বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।

দিন দিন বাড়তে থাকা বিক্ষোভে চিন্তার ভাঁজ রেলের কর্তা ব্যাক্তিদের কপালে। তাঁদের সাফ বক্তব্য হাওড়া, আসানসোল, মালদা কোথাও সমস্যা নেই। একমাত্র সমস্যা হচ্ছে শিয়ালদহ ডিভিশনেই। দিনে দিনে যে হারে যাত্রী বাড়ছে তাতে স্পেশ্যাল ট্রেন দিয়ে সামাল দেওয়া আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। উলটে রোজের বিক্ষোভ আন্দোলনে আহত হচ্ছেন রেল কর্মীরাই। সেজন্যেই শুক্রবার সকাল থেকে স্টেশনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পুলিশি টহলদারি। ৪৩টি বাড়তি স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর