১২ বছরের অপেক্ষার অবসান, অবশেষে স্বীকৃতি—২০১৪ টেট উত্তীর্ণ ২৬৪ জনের হাতে চাকরির চিঠি

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান। ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণ ২৬৪ জন যোগ্য প্রার্থীর হাতে অবশেষে নিয়োগপত্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ আইনি লড়াই, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার অবসান ঘটল অবশেষে। ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণ যাঁরা বছরের পর বছর ধরে চাকরির আশায় দিন গুনেছেন, তাঁদের জন্য এল বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৬৪ জন যোগ্য প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হল প্রাথমিক শিক্ষকতার নিয়োগপত্র। বারো বছর পর চাকরির স্বীকৃতি পেয়ে আবেগে ভাসলেন চাকরিপ্রার্থীরা—কারও চোখে জল, কারও মুখে দীর্ঘদিনের স্বস্তির হাসি।

২০১৪ সালে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকেই এই প্রার্থীদের জীবন জুড়ে ছিল অপেক্ষা আর লড়াই। মামলা-মোকদ্দমা, নিয়োগে স্থগিতাদেশ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল তাঁদের ভবিষ্যৎ। অবশেষে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের তৎপরতায় সেই জট কাটল। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় মোট ২৬৪ জন প্রার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

এই নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অজিত নায়েক। চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সরাসরি তৎপরতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রচেষ্টায় মেধার ভিত্তিতে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

অজিত নায়েক আরও বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তাঁর মতে, এই নিয়োগের ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষক সংকট অনেকটাই কাটবে।

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। অনেকেই জানিয়েছেন, একাধিকবার তাঁরা হতাশ হয়েছিলেন, তবু ন্যায়ের আশা ছাড়েননি। তাঁদের কথায়, “১২ বছর ধরে শুধু অপেক্ষা আর আন্দোলন—আজ মনে হচ্ছে সেই লড়াই সার্থক হল।” অনেকের কাছেই এই দিন শুধু চাকরি পাওয়ার নয়, বরং যোগ্যতার সামাজিক ও প্রশাসনিক স্বীকৃতির মুহূর্ত।

শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এই নিয়োগ সিদ্ধান্ত শুধু ২৬৪ জনের জীবনে পরিবর্তন আনেনি, বরং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলাগুলির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকল। বারো বছরের প্রতীক্ষার শেষে অবশেষে যে অধ্যায়ের ইতি টানল, তা রাজ্যের শিক্ষা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর