নজরবন্দি ব্যুরো: শিক্ষক দিবসে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার নিউ টাউনে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) এবং কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশ মেনেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, শুধু মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে আর চাকরি নয়, লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে চূড়ান্ত নিয়োগ।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত সময়েই শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। আদালতের সমস্ত নির্দেশ ও গাইডলাইন মেনে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও রকম অনিয়মের সুযোগ রাখা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) ইতিমধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, লিখিত পরীক্ষার ফলাফল এবং প্রার্থীর মেধাকেই নিয়োগের প্রধান ভিত্তি করা হবে। মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে সরাসরি চাকরি দেওয়ার পুরনো পদ্ধতি আর চলবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ইন্টারভিউতে তুলনামূলক বেশি নম্বর রাখার ফলে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তাই ইন্টারভিউয়ের নম্বর কমিয়ে মেধার মূল্যায়ন আরও নিরপেক্ষ করার জন্য এসএসসিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি স্কুলের পাঠ্যক্রম নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সিলেবাসে ইতিহাস, দেশপ্রেম এবং বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের যথাযথ জায়গা দেওয়া প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে সিলেবাসে গুরুত্ব দেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হল, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ কী ছিল—এসব কি পরবর্তী প্রজন্ম জানবে না? তাঁর বক্তব্যে বিশেষ ভাবে উঠে আসে মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra) মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রসঙ্গ। দেশপ্রেমের ইতিহাস পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
শিক্ষার সামগ্রিক মান নিয়েও অনুষ্ঠানে লক্ষ্যমাত্রা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে ৩১ নম্বরে রয়েছে। পরিকল্পিত ভাবে পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করে আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজ্যকে দেশের প্রথম দশে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ থেকে পাঠ্যক্রম—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ মেনে স্বচ্ছতা এবং মেধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই এ দিনের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেল। শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘ প্রতীক্ষার মধ্যে তাঁর এই ঘোষণার দিকে নজর থাকবে চাকরিপ্রার্থীদেরও।



