‘টেট’ না পাশ করলে চাকরি যাবে? সুপ্রিম নির্দেশে ৯০ হাজার শিক্ষককে ঘিরে নতুন করে বাড়ল উদ্বেগ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে ২০১১ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মরত শিক্ষকদের। পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি জানতে SSC ও পর্ষদের কাছে রিপোর্ট চাইল রাজ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চাকরির মেয়াদ শেষ হতে বাকি এখনও কয়েক বছর, কিন্তু তার আগেই দিতে হবে টেট! ২০১১ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যে টেট আয়োজনের প্রস্তুতি কতদূর, তা জানতে স্কুল শিক্ষা দপ্তর স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। ফলে প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষককে ঘিরে ফের বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) দেশের কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট (TET) উত্তীর্ণ হওয়াকে বাধ্যতামূলক করে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১১ সালের আগে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতায় যোগ দেওয়া এবং এখনও টেট উত্তীর্ণ না হওয়া শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।

প্রথমে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সাল করা হয়। অর্থাৎ, কর্মরত হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের হাতে এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে এসএসসি এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে টেট নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কবে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, কীভাবে সেই পরীক্ষা আয়োজন করা হবে এবং প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে—মূলত সেই বিষয়েই তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, দুই নিয়োগকারী সংস্থার তরফে দ্রুত শিক্ষা দপ্তরকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে। দপ্তরের এই তৎপরতার খবর সামনে আসতেই শিক্ষক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—টেট-এ উত্তীর্ণ হতে না পারলে কি এত বছরের চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হবে?

তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছুটা ছাড়ও রয়েছে। যাঁদের চাকরির মেয়াদ শেষ হতে পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি, তাঁদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ না হলেও চাকরি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে মূল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকদের নিয়ে, যাঁদের অবসরের এখনও পাঁচ বছরের বেশি সময় বাকি।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন সরব। কেন্দ্রের কাছে অধ্যাদেশ জারি করে কর্মরত শিক্ষকদের টেটের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্ন হলেও এই ইস্যুতে একাধিক শিক্ষক সংগঠন কার্যত একই অবস্থান নিয়েছে।

শিক্ষকদের একাংশের যুক্তি, বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করার পর নতুন করে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা কেন হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে টেট-এ উত্তীর্ণ না হলে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি তাঁদের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের।

এখন শিক্ষা দপ্তর কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং এসএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ টেট আয়োজন নিয়ে কী পরিকল্পনা জানায়, সেদিকেই নজর শিক্ষক মহলের। ২০২৮ সালের সময়সীমার আগে প্রায় ৯০ হাজার কর্মরত শিক্ষককে এই পরীক্ষার আওতায় আনতে হলে রাজ্যকে বড়সড় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর