ভিড় সামলাতে বন্ধ নৈহাটির বড়মার মন্দির, কবে খুলবে ফের?

উৎসবের ভিড় সামলাতে ৬-১৪ নভেম্বর পর্যন্ত নৈহাটির বড়মার মূল মন্দিরে সাধারণ দর্শন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। দণ্ডি কাটার সময়সীমা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে ২৯ অক্টোবর বৈঠক করবে প্রশাসন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উৎসবের মরশুমে পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নৈহাটির বড়মা মন্দির কমিটি। আগামী ৬ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে মন্দিরের মূল অংশে দর্শন। গত বছরের বিপুল ভিড়ের অভিজ্ঞতা এবং কলকাতার চোরবাগানের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর লক্ষ্যেই নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে মন্দির কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে।

এ বারের পুজোয় ভক্তদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। সেই কথা মাথায় রেখে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি নামানো হচ্ছে ৫০০-র বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও এনসিসি ক্যাডেট। সংকীর্ণ রাস্তায় বড় অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতে সমস্যা হতে পারে বলে জরুরি চিকিৎসার জন্য রাখা হচ্ছে বিশেষ টোটো অ্যাম্বুল্যান্সও।

কবে বন্ধ থাকবে বড়মার মন্দির?

মন্দির কমিটির তরফে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয়েছে, ৬ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মূল মন্দির বন্ধ থাকবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং পুণ্যার্থীদের চলাচল সুষ্ঠু রাখাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।

তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ২৯ অক্টোবর ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের পৌরোহিত্যে পুরসভা, মন্দির কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকের পরেই নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

২৯ অক্টোবর মন্দিরের তৃতীয় প্রতিষ্ঠা দিবসও। ওই দিন হোম-যজ্ঞ, পুজো ও ধর্মীয় পাঠের আয়োজন রয়েছে। মন্দির কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টো পর্যন্ত ভক্তরা পুজো দিতে পারবেন। যজ্ঞ চলাকালীন পুজো বন্ধ থাকলেও দর্শনে বাধা থাকবে না এবং ভোগ বিতরণ করা হবে।

বড়মার কাছে মানত পূরণ করতে বহু ভক্ত দণ্ডি কাটেন। সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর থেকে দণ্ডি কাটার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তা শেষ করতে হবে।

মন্দির কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং যুগ্ম সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ভক্তদের আবেগের বিষয়টি মাথায় রেখেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে কেউ এলে পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

দণ্ডি কাটার লাইনে কোনও পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য বিশেষ রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হবে। ভিড়ের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

ভিড়ের চাপ সামলাতে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি ৫০০-র বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও এনসিসি ক্যাডেটকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মহিলা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত মহিলা পুলিশও মোতায়েন থাকবেন।

নৈহাটির কিছু গলিপথ সংকীর্ণ হওয়ায় বড় অ্যাম্বুল্যান্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সমস্যায় পড়তে পারে। সেই কারণে চারটি টোটো অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এগুলির সাহায্যে অসুস্থ বা আহত ব্যক্তিকে দ্রুত মূল রাস্তায় নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হবে।

অরবিন্দ রোড ও সংলগ্ন মোড়গুলিতে সাধারণ ও আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মজুত থাকবে ওআরএস, জীবনদায়ী ওষুধ এবং চিকিৎসক দল। উৎসবের ভিড়ে কোনও পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি।

মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, ২ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মানতের সোনা-দানা ও প্রণামী জমা নেওয়া হবে। ৭ ও ৮ নভেম্বর ফল ও মিষ্টির ডালি গ্রহণ করা হবে।

ভক্তদের সুবিধার জন্য অনলাইন পুজোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রসাদ বিতরণের জন্য রেললাইনের উল্টো দিকেও বিশেষ কাউন্টার তৈরি করা হচ্ছে। ফলে ভিড়ের মধ্যে প্রসাদ সংগ্রহের চাপ কিছুটা কমানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী এবং ফেরিঘাটে যাতায়াত করা মানুষের অসুবিধা কমাতেও আলাদা ট্র্যাফিক রুটম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। কোন রাস্তা দিয়ে যান চলাচল করবে, কোথায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং পুণ্যার্থীরা কী ভাবে মন্দির এলাকায় পৌঁছবেন—এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রশাসনের বৈঠকের পর প্রকাশিত হওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে, এ বারের বড়মা পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মন্দির কমিটি ও প্রশাসন। তবে ৬ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত মূল মন্দিরে দর্শন বন্ধ থাকার সিদ্ধান্তের পর কবে থেকে আবার সাধারণ দর্শন শুরু হবে, সে বিষয়ে পৃথক ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর