গঙ্গাসাগর মেলার পরিসর বাড়ছে ৬ লক্ষ বর্গফুট, গেরুয়া বাংলায় জাতীয় মেলার স্বীকৃতি মিলবে?

পুণ্যার্থীদের ভিড় সামাল দিতে গঙ্গাসাগর মেলার পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাতায়াত ও রাত্রিবাসের পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে জাতীয় মেলার স্বীকৃতির দাবিও জোরদার করছে রাজ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গতবারের তুলনায় প্রায় ৬ লক্ষ বর্গফুট এলাকা বাড়িয়ে মেলাপ্রাঙ্গণ ১৮ লক্ষ বর্গফুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সম্ভাব্য রেকর্ড ভিড় সামলানো এবং যাতায়াত ও রাত্রিবাসের সুবিধা বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতদিন প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকায় মেলার আয়োজন করা হত। এবার সেই পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বাসস্ট্যান্ড, হেলিপ্যাড এবং যাত্রীনিবাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মেলার বিস্তৃতি বাড়লে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পুণ্যার্থীদের চলাচল পরিচালনা করা আরও সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

গঙ্গাসাগর মেলায় প্রতি বছর বহু পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। সেই ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এবারের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পরিকাঠামো উন্নয়নে। মেলাপ্রাঙ্গণের আয়তন বাড়ানোর পাশাপাশি যাতায়াত এবং থাকার জায়গার ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অতিরিক্ত বাসস্ট্যান্ড তৈরি হলে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের চাপ সামলাতে সুবিধা হতে পারে। একই ভাবে, হেলিপ্যাড ও যাত্রীনিবাসের পরিকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ মেলার ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে নতুন পরিকাঠামোর নির্দিষ্ট সংখ্যা, নির্মাণের সময়সীমা এবং প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিবরণ এখনও এই প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে নেই।

পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও তুলেছে রাজ্য সরকার। এই স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর চলতি বছরেই স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। তবে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি চূড়ান্ত হয়েছে, এমন কোনও তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ফলে বিষয়টি এখনও রাজ্যের দাবি ও প্রশাসনিক তৎপরতার পর্যায়েই রয়েছে।

গঙ্গাসাগরকে রেল ও সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনার বিষয়েও কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে এই বিষয়ে আর্জি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গঙ্গাসাগরের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।

গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও উন্নত ও সুসংগঠিত করে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ। রাজ্যের দাবি, এই প্রকল্পের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বর্তমানে গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজনকে আরও আধুনিক করার জন্য একাধিক পরিকাঠামোগত উদ্যোগের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মেলার পরিসর বৃদ্ধি, যাত্রী পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই এগোতে চাইছে প্রশাসন।

মেলার আয়তন ১২ লক্ষ থেকে ১৮ লক্ষ বর্গফুটে বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুণ্যার্থীদের জন্য আরও বেশি জায়গা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রীনিবাসের মতো পরিষেবা বাড়ানো গেলে ভিড়ের চাপ সামলানো এবং যাত্রীদের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পরিকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির উপর। জাতীয় মেলার স্বীকৃতির দাবিও এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির পরবর্তী অগ্রগতি গঙ্গাসাগর মেলার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর