ভারতবর্ষের রাজনীতিতে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে, উত্তরপ্রদেশই ঠিক করে দেশের ক্ষমতায় কোন পার্টি আসবে। রাজধানী দিল্লির লাগোয়া উত্তরপ্রদেশ। ৮০ আসন বিশিষ্ট এ রাজ্যে ২০১৯ সালের লোকসভায় ৬২ আসন পায় বিজেপি। সেখানে এবার একটা, দু’টো নয়, ২৯টা জেতা আসন হারিয়েছে তাঁরা। অনেকেই বলছেন, অখিলেশ যাদব-রাহুল গান্ধীর সামনে কার্যত ম্লান হয়েছে নরেন্দ্র মোদী-যোগী আদিত্যনাথের জুটি। ফলে, এবার ক্ষমতায় এলেও উত্তরপ্রদেশ কার্যত মুখ ফিরিয়েছে বিজেপির থেকে।
আরও পড়ুন: ফের মোদী-ম্যাজিক! সুর নরম চন্দ্রবাবুর, স্পিকার পদে বিজেপিকেই ঐক্যবদ্ধ সমর্থন শরিকদের!


উত্তরপ্রদেশে কেন এই বিপর্যয় হল তা নিয়ে ময়নাতদন্ত জারি রয়েছে বিজেপির অন্দরে। তারই মধ্যে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে বৈঠক করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবৎ। দু’বার আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন তাঁরা। সেখানে সকলের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বুধবারই গোরক্ষপুরে এসেছেন মোহন ভাগবৎ। ক্যাম্পিয়ারগঞ্জ এলাকার একটি স্কুলে প্রথম বৈঠকটি হয়। এরপর পাকিবাগ এলাকার সরস্বতী শিশু মন্দিরে যোগী ও ভাগবৎ আলোচনায় বসেন। দু’জায়গাতেই ছিল সঙ্ঘের অনুষ্ঠান।

এবারের বিজেপির ফলাফল আশানুরূপ নয়। শরিকদের সমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। মাত্র ২৪০ আসন পেয়েছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশে ৩৩। সেখানে সমাজবাদী পার্টি পেয়েছে ৩৭ আসন। কংগ্রেস ৬টি। ফলে, গো-বলয় নিয়ে চিন্তা তো একটা রয়েছেই। ফল প্রকাশের পরেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করেন মোহন ভাগবৎ। এবার কেন এই ফল হল ও আগামীতে কী করা উচিৎ না নিয়েই যোগীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
কেন পদ্ম-বিমুখ উত্তরপ্রদেশ? যোগীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে ভাগবৎ



উত্তরপ্রদেশের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শুধুমাত্র ‘মোদী’-কে সামনে রেখে বিজেপির এই প্রচার ‘ভালো’ চোখে নেয়নি ভোটাররা। সঙ্ঘকে দূরে ঠেলে শুধুমাত্র দল হিসাবে বিজেপি যে এখনও গো-বলয়ে কিছুটা পিছিয়ে তা এবারের লোকসভা প্রমাণ দিয়েছে। পাশাপাশি, যোগী আদিত্যনাথের ভক্তরাও বিজেপির ‘মোদীকেন্দ্রিকতা’-তে কিছুটা অসন্তুষ্ট বলে খবর।







