ভোট পর্ব মিটেছে। শপথ গ্রহণও সম্পন্ন। শরিকদের সমর্থন নিয়ে ফের একবার দেশের মসনদে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলো সমর্থনকারীরা আশা করেছিলেন, তা-ও সুকৌশলে এড়িয়েছেন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। আর এবার স্পিকার পদের ক্ষেত্রেও ওভার বাউন্ডারি হাঁকালেন মোদীই। প্রথম থেকেই যে পদ নিয়ে দর কষাকষি চলছিল শরিকদের মধ্যে। সেই ছবি বদলে গেল এক সপ্তাহের মধ্যেই। সুর নরম করে টিডিপি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নায়ডু এবং জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার জানিয়ে দিলেন, বিজেপির মনোনীত প্রার্থীকেই স্পিকার পদের জন্য সমর্থন জানাবেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: সাড়া জাগিয়েও সাফল্য অধরাই, সমস্যাটা আসলে কোথায়? নজিরবিহীন অধিবেশনের পথে CPIM
এবারের লোকসভায় ৪০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২৪০ আসনে থেমেছে বিজেপি। ম্যাজিক ফিগার ২৭২ এককভাবে পার করা সম্ভব হয়নি। ফলে, নির্ভর করতে হয়েছে শরিকদলগুলির ওপর। সব মিলিয়ে এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯৩ আসন। সেখানে ২৮ আসন দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে চন্দ্রবাবুর টিডিপি ও নীতীশ কুমারের জেডিইউ। ফলে, এই শরিক নির্ভরতা আগামী ৫ বছর বহন করতেই হবে বিজেপিকে, যদি তাঁরা সরকারে থাকতে চায়।

এমতাবস্থায়, প্রথমেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দাবি করেন চন্দ্রবাবু। বা, পরোক্ষভাবে চেয়েছিলেন, অমিত শাহের অপসারণ। অন্যদিকে, নীতীশের দাবি ছিল, রেল মন্ত্রক। কিন্তু, ১০ বছরের সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে মোদী সেই অর্থে শরিকদের তেমন কিছুই দিলেন না! স্বরাষ্ট্রে থাকলেন অমিত শাহই, রেলও থাকল অশ্বিনী বৈষ্ণবের হাতে। পূর্ণমন্ত্রীর তালিকায় চন্দ্রবাবুর দলের কে রামমোহন নায়ডু পেয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। আর নীতীশের দলের রাজীবরঞ্জন সিংহকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েতি রাজ-মৎস্য-পশুপালন-ডেয়ারি মন্ত্রক। এ ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর’ চেয়ে বেশি কিছু নয়!
এরপরই স্পিকার পদের দাবি রাখেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের তরফেও সাফ জানানো হয়, চন্দ্রবাবুকে সমর্থন করবে তাঁরা। কিন্তু, আখেড়ে সেখানেও বাজিমাত করল বিজেপি। স্পিকার পদ নিয়ে নিজেদের দাবি থেকে সরে এসেছে টিডিপি। বিজেপি যদি সর্বসম্মতিতে কাউকে প্রার্থী করে তাহলে তাঁকে সমর্থনে আপত্তি নেই চন্দ্রবাবু। একই বক্তব্য নীতীশ কুমারেও। কারণ, তাঁদের মতে, এনডিএ জোটের প্রধান শরিক হিসাবে স্পিকার পদে প্রথম দাবি বিজেপিরই।
ফের মোদী-ম্যাজিক! সুর নরম চন্দ্রবাবুর, স্পিকার পদে বিজেপিকেই ঐক্যবদ্ধ সমর্থন শরিকদের!

বিজেপি শরিকদের ‘ম্যানেজ’ করে নেওয়ার ফলে এবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটকেও নিজেদের ‘লাইন’ বদলাতে হচ্ছে। যে চন্দ্রবাবুকে তাঁরা সমর্থন দেবেন ভেবেছিলেন তা হচ্ছে না। ফলে, নিজেরাই প্রার্থী দিতে পারে বিরোধী জোট। একই সঙ্গে বিগত দু-বার লোকসভায় ডেপুটি স্পিকারের পদটি খালি পড়ে থাকলেও এবার যাতে সেখানে নিজেদের প্রার্থীকে সেই পদে বসানো হয় তা নিয়েও এনডিএ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে ‘ইন্ডিয়া’।



