এবারের লোকসভায় বোধহয় বামপন্থার থেকে কয়েক যোজন দূরে অবস্থান করা ব্যক্তিটিও ভেবেছিলেন, একটি আসন অন্তত পাবে বামফ্রন্ট। কারণ, বেশ সাড়া জাগানো প্রচার হয় চলছিল। তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী মিছিলে হাজার হাজার লাল ঝাণ্ডায় ঢেকে যেত শহরের নিকষ কালো রাস্তা। একাধিক ঝাঁ চকচকে তরুণ-তরুণীদের প্রার্থী করে চমকও দিয়েছিল আলিমুদ্দিন। কিন্তু, ফলাফলে কী হল? ৩০ জনের মধ্যে ২৮ জনেরই জামানত জব্দ!
আরও পড়ুন: ভোট মিটতেই আবাস যোজনা নিয়ে সক্রিয় নবান্ন, জুলাই থেকে শুরু সমীক্ষার কাজ
লোকসভা নির্বাচনে এই ভরাডুবির পর এবার নজিরবিহীন কায়দায় বর্ধিত অধিবেশনের ডাক দিল আলিমুদ্দিন। কলকাতার বাইরে এই অধিবেশন আয়োজন করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে, বাঁকুড়া বা পুরুলিয়ায় সেই অধিবেশন বসতে পারে। আগামী ১৯ ও ২০ জুন রাজ্য কমিটির বৈঠক রয়েছে সিপিআইএমের। সেই বৈঠকেই লোকসভার বিপর্যয় নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনা হবে। এ বছরই আবার অক্টোবর মাস থেকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে বামেদের। তার আগেই এই বর্ধিত অধিবেশনের বিষয়টি বেশ চমকপ্রদই।

রাস্তা-ঘাটে মিটিং মিছিলে কিংবা সমাজমাধ্যমে ঝড় তুললেও কেন তার প্রতিফলন ভোটবাক্সে নেই? বামেদের নিচুতলায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, এই জোট নামক ‘ঘোঁট’ অনেকেই এখনও মেনে নিতে পারেননি। একাংশ এরকমও বলচহে, তাঁরা চোখ ‘বন্ধ’ করে কাস্তে-হাতুড়িতে ছাপ না দিয়ে ‘হাত’ চিহ্নে রায় দিলেও কংগ্রেসের ভোট সিপিআইএম-এর ঝুলিতে আসছে না। সেই কারণে লোকসভায় ১১টি বিধানসভা কংগ্রেস পেলেও, বামেরা পেয়েছে একটি! তাছাড়া সমাজ মাধ্যমের বাইরে জনসংযোগ ও সংগঠন ক্রমেই আরও দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে।
সাড়া জাগিয়েও সাফল্য অধরাই, সমস্যাটা আসলে কোথায়? নজিরবিহীন অধিবেশনের পথে CPIM

দিন কয়েক আগেই রাজ্যে আসেন সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি রীতিমতো বঙ্গ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন ‘শত্রু’ নির্বাচনে ভুল করেছে বামেরা। তাঁর মতে, ‘বিজেমূল’ তত্ত্ব আবারও ফ্লপ হয়েছে। আর বছর দুয়েক পর বিধানসভা নির্বাচন। লোকসভার পর্যালোচনা সেরে আবার প্রস্তুতিতে মন দিতে চায় বামফ্রন্ট। আগামীদিনে কোন মন্ত্রে সাফল্য আসবে তা খোঁজার চেষ্টা চলছে বাম শিবিরে।



