রাজ্যে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে। জুন মাস থেকে কার্যকর হতে চলা এই প্রকল্পে মহিলাদের জন্য আনা হচ্ছে বিশেষ ‘পিংক কার্ড’। এই কার্ডই হবে ফ্রি যাত্রার পরিচয়পত্র এবং এর ভিত্তিতেই বাসে শূন্য টাকার টিকিট ইস্যু করা হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন পরিষেবা চালুর আগে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরির কাজ করছে পরিবহণ দপ্তর। কার্ড বিতরণ, যাত্রী যাচাই, টিকিট ব্যবস্থা এবং বাসকর্মীদের প্রশিক্ষণ— সব বিষয় নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।


প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাঁদের হাতে এখনও ‘পিংক কার্ড’ পৌঁছবে না, তাঁরা বিকল্প পরিচয়পত্র দেখিয়েই বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, মনরেগা কার্ড বা রাজ্যের বাসিন্দা হওয়ার অন্য কোনও বৈধ ফোটো পরিচয়পত্র দেখালেই আপাতত এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
পরিবহণ দপ্তর ইতিমধ্যেই সরকারি বাস ব্যবস্থার উপর সমীক্ষা চালিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মহিলা সরকারি বাস ব্যবহার করেন। গোটা রাজ্যে সেই সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ। নতুন প্রকল্প চালু হলে আরও প্রায় ১ লক্ষ নতুন মহিলা যাত্রী যুক্ত হতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে সরকারি এসি, নন-এসি এবং দূরপাল্লার সরকারি বাস— সব ক্ষেত্রেই বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। ফলে পরিবহণ ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


‘পিংক কার্ড’ কোথা থেকে দেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বিডিও অফিস, এসডিও অফিস এবং পুরসভা স্তর থেকে এই কার্ড বিতরণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এছাড়াও যাতে যাত্রী ও কন্ডাক্টরদের মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি বা বিরোধ তৈরি না হয়, তার জন্য সরকারি বাসের চালক ও কন্ডাক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে মহিলা-কেন্দ্রিক একাধিক সামাজিক প্রকল্প ঘোষণার আবহে এবার গণপরিবহণেও বড় পরিবর্তনের পথে সরকার। এখন নজর— ১ জুন থেকে বাস্তবে এই পরিষেবা কতটা নির্বিঘ্নভাবে চালু করা যায়।










