ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মরত ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে গ্রেফতার করল সিবিআই। অভিযোগ, সরকারি দরপত্র পাইয়ে দেওয়ার নামে ৫০ লক্ষ টাকার ঘুষ লেনদেনে জড়িত ছিলেন তিনি। ধৃত কর্নেল হিমাংশু বালি ইস্টার্ন কমান্ডের আর্মি অর্ডন্যান্স কোরে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় সেনা মহল ও প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে এই ঘুষকাণ্ডে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। অভিযোগ, ফোর্ট উইলিয়ামের একাধিক কাজের বরাত পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটাতেন কর্নেল হিমাংশু বালি। বিনিময়ে নেওয়া হত মোটা অঙ্কের ঘুষ।
তদন্তকারীদের দাবি, কানপুরের ব্যবসায়ী অক্ষত অগ্রবাল এবং তাঁর সংস্থা ‘ইস্টার্ন গ্লোবাল লিমিটেড’-কে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ধৃত সেনা আধিকারিকের। অভিযোগ, নিম্নমানের নমুনা অনুমোদন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত বিল পাশ করানো— একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
সিবিআইয়ের এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্ষত অগ্রবাল এবং তাঁর বাবা ময়াঙ্ক অগ্রবাল নিয়মিতভাবে কর্নেল হিমাংশু বালির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। কলকাতার ইস্টার্ন কমান্ডের একাধিক দরপত্রে সুবিধা আদায় করতেই এই যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
চলতি বছরের মার্চ এবং এপ্রিল মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দরপত্র নিয়ে কর্নেলের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছিল বলেও দাবি সিবিআইয়ের। তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২২ এপ্রিল পার্ক স্ট্রিটে এই দরপত্র সংক্রান্ত বৈঠকও হয়েছিল। তার ঠিক দু’দিন পরেই সংশ্লিষ্ট কাজের বরাত পেয়ে যায় অক্ষতের সংস্থা।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, সোমবার হাওয়ালার মাধ্যমে ঘুষের টাকা দিল্লিতে কর্নেলের এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই গোটা লেনদেনের নথি হাতে আসে সিবিআইয়ের।
শুধু একটি নয়, একাধিক সরকারি দরপত্র পাইয়ে দেওয়ার জন্য ‘চুক্তি’ হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। এই দুর্নীতিতে সেনাবাহিনীর আরও কয়েক জন জড়িত থাকতে পারেন বলেও অনুমান করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁদের নাম প্রকাশ করেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
বর্তমানে কর্নেল হিমাংশু বালির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই এই ঘুষকাণ্ডের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



