মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরেই আবেগঘন বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে উত্তরকন্যা— সর্বত্র বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি বিজেপির ‘ঋণ শোধ’ করতেই এবার প্রতি মাসে নিয়মিত সফরে আসবেন তিনি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
বুধবার সকালে উত্তরবঙ্গ সফরে পৌঁছেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পাশে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।


শুভেন্দু বলেন, “২০০৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গ বিজেপির পাশে থেকেছে। এবার আমাদের দায়িত্ব সেই আস্থা ফিরিয়ে দেওয়া। আমরা কথা দিয়েছি, আর সেই কথা রাখব।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এবার থেকে উত্তরবঙ্গকে আর প্রশাসনিকভাবে অবহেলা করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি মাসে তিনি নিজে উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্যরাও নিয়মিত এখানে প্রশাসনিক কাজ করবেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার সমাধানের কাজ দেখবেন বলেও জানান শুভেন্দু।
বুধবার সকাল থেকেই বাগডোগরা বিমানবন্দরের বাইরে শুভেন্দুকে একঝলক দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে হাতজোড় করে সকলকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদও জানান তিনি।


এরপর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পৌঁছে যান শিলিগুড়ির স্যাটেলাইট টাউনশিপে অবস্থিত উত্তরকন্যায়। সেখানে পাঁচ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, আইজিপি, পুলিশ সুপার এবং আমলাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি।
নবান্ন সূত্রে খবর, বর্ষা আসার আগেই উত্তরবঙ্গের বন্যা, পাহাড়ি ধস, হড়পা বান ও নদীভাঙন মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা এবং চা বাগান এলাকার শ্রমিকদের সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তবে প্রশাসনিক বৈঠকে সবচেয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বেআইনি দখলদারি ও মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সরকারি জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ এবং নদী থেকে বালি-পাথর পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যে সরকার বদলের পর উত্তরবঙ্গকে ঘিরে নতুন প্রশাসনিক সক্রিয়তা যে শুরু হয়েছে, শুভেন্দুর এই সফর তারই বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি ও সরাসরি তদারকির আশ্বাসে উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



