সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা আরও কড়া নজরদারির আওতায় আনতে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্যদপ্তর। চিকিৎসকদের ডিউটির সময় হাসপাতালে উপস্থিতি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক হাজিরা, জরুরি বিভাগে নজরদারি ক্যামেরা— স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন নির্দেশ কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সোমবার রাতে শহরের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ও অধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক করে স্বাস্থ্যদপ্তর। বৈঠকে উপস্থিত ছিল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনিক কর্তারা। মূল লক্ষ্য ছিল— ডিউটির সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগী পরিষেবায় অনিয়ম কমানো।


নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে চিকিৎসকদের পরবর্তী মাসের ডিউটি রোস্টার স্বাস্থ্যভবনে জমা দিতে হবে। কোন চিকিৎসক কোন সময়ে হাসপাতালে থাকবেন, তার পূর্ণ তালিকা আগে থেকেই প্রশাসনের কাছে থাকবে। রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শুধু চিকিৎসক নয়, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রেও হাজিরা ব্যবস্থায় বড় বদল আনা হচ্ছে। উপস্থিতি সংক্রান্ত কারচুপি ঠেকাতে সকলের জন্য বায়োমেট্রিক অ্যাটেনড্যান্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে, রোগী পরিষেবায় কর্মী অনুপস্থিতি কমাতেই এই পদক্ষেপ।
জরুরি বিভাগকে আরও স্বচ্ছ করতে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলির নিয়ন্ত্রণ হাসপাতালের হাতে থাকবে না— সরাসরি স্বাস্থ্যভবন থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে জরুরি পরিষেবায় কোনও অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে।


এছাড়াও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা জোরদার করতে নতুন ডিউটি কাঠামো আনা হচ্ছে। আগে যেখানে একজন মেডিক্যাল অফিসার ও সিনিয়র রেসিডেন্ট থাকতেন, সেখানে এখন অতিরিক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদমর্যাদার চিকিৎসক ও আরও একজন চিকিৎসককে ২৪ ঘণ্টার ভিত্তিতে রাখা হবে। দীর্ঘ ডিউটির পর পরের দিন ছুটির ব্যবস্থাও থাকবে।
ময়নাতদন্ত ঘিরে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়েও কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়াতে সিভিল ড্রেসে পুলিশি টহল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সরকারি স্ট্যাম্পযুক্ত পৃথক পরিচয়পত্র চালুর কাজও এগোচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও জবাবদিহিমূলক ও রোগীকেন্দ্রিক করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ— এমনটাই প্রশাসনিক মহলের দাবি। এখন নজর, নতুন নিয়ম বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং রোগী পরিষেবায় তার কতটা প্রভাব পড়ে।








