দক্ষিণবঙ্গে গরমের দাপট এখনই কমছে না। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী সাতদিন অর্থাৎ প্রায় ১৬৮ ঘণ্টা জুড়ে তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তনের আশা নেই।
রাজ্যজুড়ে গরমের তীব্রতা ইতিমধ্যেই চরমে পৌঁছেছে। সোমবার পানাগড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কলাইকুণ্ডা ও ব্যারাকপুরে পারদ উঠেছে ৪১.৭ ডিগ্রিতে। বাঁকুড়াতেও তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও অস্বস্তি বাড়ছে।


আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি মূলত স্থানীয় এবং স্বল্প সময়ের হওয়ায় দাবদহ থেকে বড় স্বস্তি মিলবে না বলেই ইঙ্গিত।
তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে নদিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। অন্য জেলাগুলিতেও হালকা থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। ২০ মে-র পরেও স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং দুই বর্ধমানে।
তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টি হলেও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রির আশেপাশেই ঘোরাফেরা করতে পারে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আগামী সাতদিন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দু’দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাতে অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না।


অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। গত কয়েকদিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পর ২০ মে থেকে কিছু জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে। অন্য জেলাগুলিতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে।
সব মিলিয়ে রাজ্যের একদিকে দাবদহ, অন্যদিকে আংশিক বৃষ্টির দ্বৈত পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত জলপান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।









