রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা যত বাড়ছে, ততই চাপে পড়ছেন তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা। উত্তর ২৪ পরগনার দাপুটে যুবনেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করল তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামী অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীকে। প্রোমোটারের কাছ থেকে কোটি টাকার কাটমানি দাবি ও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ঘিরে এখন তুমুল চাঞ্চল্য বিধাননগর-রাজারহাট জুড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অমিত চক্রবর্তীকে বুধবার বারাসত জেলা আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে চলেছেন। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাগুইআটির রঘুনাথপুর এলাকার এক প্রোমোটারের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন অমিত।


প্রোমোটার কিশোর হালদারের অভিযোগ, প্রাণভয়ে প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হলেও পরে বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করতেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্রের বাট ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলেও দাবি।
কাটমানির অভিযোগে অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তী আটক, পুলিশের জালে ‘ছায়াসঙ্গী’ ননীও!

এই ঘটনার পরেই বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী। সেই মামলার তদন্তেই মঙ্গলবার রাতে অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল।
অন্যদিকে, দেবরাজ চক্রবর্তীর আটক হওয়া নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা ও যুব তৃণমূলের সংগঠনে অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করা হত।


দেবরাজের বিরুদ্ধে বেআইনি নিয়োগ, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া এবং আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করছিল পুলিশ ও গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু হয়েছিল।
পুলিশি তৎপরতার আঁচ পেয়ে গত কয়েক দিন ধরেই একাধিক মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে ছিলেন দেবরাজ। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলেও সঠিক অবস্থান জানা যাচ্ছিল না বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের।
অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে তাঁর অবস্থানের খবর পেয়ে রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন অতীতেও ইডি ও সিবিআইয়ের নজরে এসেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। তবে এবার সরাসরি রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে তাঁর আটক হওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল সংগঠনে এই ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



