কলকাতার আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বহুতল দফতরে বুধবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের একাধিক তলা থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে, যা গোটা এলাকা ঢেকে দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয়েছে জোরকদমে উদ্ধার ও নির্বাপণ অভিযান।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল প্রায় পৌনে ১০টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ভবনের ভিতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন। এরপরই দমকলকে খবর দেওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে অন্তত ১০টি দমকল ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ভবনের একটি বাতানুকূল যন্ত্রে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রথমে চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতার কারণে সিঁড়ি ব্যবহার করে উপরে ওঠা সম্ভব হয়নি দমকলকর্মীদের।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবনের জানলার কাচ ভেঙে ভিতরে জল ছোড়ার কাজ শুরু করা হয়। একইসঙ্গে উপরের তলায় আটকে পড়া কর্মীদের নিরাপদে নামিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দমকলকর্মীরা দড়ির সাহায্যে তাঁদের নীচে নামিয়ে আনেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাস্থলের আশপাশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর থাকায় প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আগুন যাতে অন্য ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আক্রান্ত ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
দমকল আধিকারিকদের দাবি, বহুতলের ভিতরে কোনও ব্যক্তি আটকে নেই। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ঝুঁকি এড়াতে ভবন সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংকীর্ণ রাস্তা এবং আশপাশে ঘন গাছপালা থাকায় মই ব্যবহার করতে কিছুটা সমস্যা হলেও আগুন নেভানোর কাজ জোরকদমে চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিস্তারিত তদন্ত শুরু হবে। আপাতত প্রশাসন এবং দমকলের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আশপাশের সরকারি ভবনগুলিকে সুরক্ষিত রাখা।



