বিধানসভায় তৃণমূলের প্রথম আন্দোলনেই ভরাডুবি! অর্ধেকের বেশি বিধায়ক গরহাজির, চাপে নেতৃত্ব

বিধানসভায় তৃণমূলের প্রথম অবস্থান কর্মসূচিতেই অনুপস্থিত অর্ধেকের বেশি বিধায়ক। স্লোগান রাজনীতি ও দলীয় সমীকরণ ঘিরে জোর জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম বড় পরিষদীয় কর্মসূচিতেই অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে দলের অবস্থান বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩৪ জন বিধায়ক। ৮০ জন বিধায়কের দলে অর্ধেকেরও বেশি সদস্যের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

বুধবার তৃণমূলের পরিষদীয় দল রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হামলা, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভায় অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষ-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

কিন্তু কর্মসূচি শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, দলের বহু বিধায়ক সেখানে নেই। শুরুতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩১ জন বিধায়ক। পরে আরও তিন জন যোগ দিলেও মোট উপস্থিতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪-এ। প্রধান বিরোধী দলের প্রথম বড় কর্মসূচিতে এই কম উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই দলের সংগঠন ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে আরও একটি বিষয়। কর্মসূচিতে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ এবং ‘তৃণমূল জিন্দাবাদ’ স্লোগান উঠলেও, একবারের জন্যও শোনা যায়নি ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান। দলীয় অন্দরের সাম্প্রতিক সমীকরণের সঙ্গে এই ঘটনাকে মিলিয়ে দেখছেন অনেকে।

বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাফাই দেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বহু এলাকায় দলের কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই কারণে অনেক বিধায়ক নিজেদের এলাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যস্ত ছিলেন।

কুণাল আরও জানান, দলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমও বিভিন্ন জেলায় পরিদর্শনে গিয়েছে। ফলে বহু বিধায়ক কলকাতায় সময়মতো পৌঁছতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ব্যাখ্যায় পুরো পরিস্থিতি চাপা দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, ভয় দেখানো এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশি অভিযান জোরদার হয়েছে। গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক নেতা গ্রেফতার হওয়ায় দলের অন্দরে চাপ বাড়ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

ইতিমধ্যেই বিধাননগরের প্রভাবশালী কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। অন্যদিকে সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস এবং বালি কেন্দ্রের প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র।

এই পরিস্থিতিতে বিধানসভায় তৃণমূলের প্রথম বড় কর্মসূচিতে এত সংখ্যক বিধায়কের অনুপস্থিতি যে দলের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা, তা কার্যত মেনে নিচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরের একাংশও। বিরোধী আসনে বসার পর দল কত দ্রুত নিজেদের সংগঠিত করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News
-Advertisement-

এই ধরনের আরও খবর

সদ্য প্রকাশিত