সমাজমাধ্যমে ছড়ানো একাধিক পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পত্তির যৌথ মালিকানা নিয়ে নাম জড়ানোর পর প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর নামে প্রচারিত তথ্য ভুয়ো এবং মানহানির চেষ্টা হলে আইনি পথে হাঁটবেন।
গত কয়েকদিন ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং কলকাতা পুরনিগমের নোটিস নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল। সেই আবহেই সমাজমাধ্যমে কিছু পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে কলকাতার একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষের যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তি রয়েছে।


এই জল্পনার জবাবে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেন সায়নী ঘোষ। তিনি লেখেন, তাঁর কাছে ফরওয়ার্ড হওয়া কিছু বার্তায় এমন একটি সম্পত্তির উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সেখানে দেওয়া তথ্য ও নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সায়নী আরও দাবি করেন, তিনি একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনও সম্পত্তি অর্জন করেননি। তিনি তাঁর নির্বাচনী হলফনামার তথ্যের দিকে নজর দেওয়ার আবেদন জানান এবং বলেন, তাঁর আর্থিক অবস্থান সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য প্রকাশ্য নথিতে রয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়া তাঁর নাম জড়িয়ে প্রচার চালানো হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি লেখেন, “এই ‘ঘোষ’ কোনও অন্যায় অপবাদের শিকার হয়ে ভয় পেয়ে গুটিয়ে যেতে আসেনি।”


পোস্টের শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ পঙ্ক্তির উল্লেখ করে তিনি জানান, মিথ্যা প্রচারের সামনে তিনি মাথা নত করবেন না।
এদিকে এই বিতর্কে দলীয় অবস্থানও জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে যে তথ্য সামনে আনা হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর এবং যাচাই না করেই প্রচার করা হচ্ছে। দল দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তবেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত।
এই মুহূর্তে বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সরকারি বা আইনি স্তরে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



