অভিষেকের চিঠিতে ‘গলদ’, বিধানসভায় আটকে বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি! RTI করলেন শোভনদেব

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে রেজোলিউশন ও মিনিটস না থাকায় বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে নতুন জটিলতায় তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি থাকায় এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। আর এই অচলাবস্থার মাঝেই তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কথা স্পিকারকে জানান। সেই সঙ্গে সহকারী দলনেতা হিসেবে অসিমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচেতক হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নামও পাঠানো হয়।

কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত হয় ওই চিঠির আনুষঙ্গিক নথি ঘিরে। বিধানসভা সচিবের বক্তব্য, চিঠির সঙ্গে কোনও রেজোলিউশন কপি বা বৈঠকের মিনিটস জমা দেওয়া হয়নি। ফলে কতজন বিধায়ক এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।

শুধু তাই নয়, চিঠিতে বৈঠকের উল্লেখ থাকলেও সেই বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তারিখ বা সময়েরও কোনও উল্লেখ ছিল না বলে দাবি সচিবালয়ের। এই কারণেই স্পিকার ওই চিঠির ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে পরের দিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভা সচিবালয়ের তরফে। সেখানে বৈঠকের রেজোলিউশন কপি এবং বিস্তারিত মিনিটস জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিধানসভা সচিব স্পষ্ট করেছেন, এটি রাজনৈতিক নয়, সম্পূর্ণ আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়। ‘বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি মেম্বার্স এমোলিউমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৩৭’-এর নির্দিষ্ট ধারায় বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই রয়েছে।

অতীতের উদাহরণ টেনে সচিবালয় জানিয়েছে, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই নিয়ম ভেঙে কোনও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে যেতে নারাজ স্পিকার।

এই আবহেই এবার সক্রিয় হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি আরটিআই করে জানতে চেয়েছেন, ২০১১ এবং ২০১৬ সালে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন কীভাবে হয়েছিল এবং তখন কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল।

বিধানসভা সূত্রে খবর, নিয়ম মেনেই সেই আরটিআই-এর জবাব দেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরেই নথিপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে যে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে, তার জেরেই আপাতত বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে জট কাটছে না। নতুন রেজোলিউশন জমা না পড়া পর্যন্ত শোভনদেব-ফিরহাদদের দায়িত্ব কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর