টালিগঞ্জের সাংস্কৃতিক ও শিল্পী মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। হাতে গঙ্গাজলের বোতল নিয়ে ফেডারেশনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর বার্তা দিলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রতীকী কর্মসূচি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ফেডারেশনের কার্যালয়ে প্রবেশের আগে চৌকাঠে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ভূমিকে প্রণাম করেন পাপিয়া অধিকারী। উপস্থিত সমর্থকদের মুখে ‘ভারতমাতা কি জয়’ স্লোগানও শোনা যায়। পরে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে দুর্নীতি ও অপশাসনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এবং নতুন পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।


পাপিয়া অধিকারী বলেন, তাঁর কাছে এই পদক্ষেপ প্রতীকী। তাঁর বক্তব্য, পরিবর্তনের পরে নতুন সূচনার বার্তা দিতেই এই শুদ্ধিকরণের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃতভাবে সংগঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাদুশিল্পী পরিবারের সদস্য মুমতাজ সরকার ও মানেকা সরকার-সহ একাধিক শিল্পী। তাঁরা শিল্পীদের অভিযোগ ও কাজের সুযোগ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। মুমতাজ সরকার বলেন, শিল্পী মহলের সমস্যাগুলি লিখিতভাবে তুলে ধরা হবে এবং নতুন নেতৃত্বের কাছে সমাধানের আশা রয়েছে।
পাপিয়া অধিকারী এদিন ইন্দ্রজাল বা ম্যাজিক শিল্পকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্য, সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও বহুমাত্রিক করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন শিল্পধারার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করা হবে।


অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। একাংশ একে প্রতীকী পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার অন্য অংশের মতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক প্রতীকের বাইরে রাখা উচিত।
টালিগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিসরে এই পদক্ষেপ আগামী দিনে বাস্তব পরিবর্তনের দিকে যায়, নাকি শুধুই প্রতীকী বার্তা হিসেবেই থেকে যায়— এখন নজর সেদিকেই।











