কেন নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? কোহলির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, তোলপাড় ভারতীয় ক্রিকেট

নেতৃত্বের চাপ, আত্মসন্দেহ এবং মানসিক ক্লান্তি— দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন বিরাট কোহলি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ সময় ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হয়ে থাকার চাপ তাঁকে ভিতর থেকে ক্লান্ত করে দিয়েছিল— এমনই অকপট স্বীকারোক্তি করলেন বিরাট কোহলি। তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আর প্রত্যাশার পাহাড়— সব মিলিয়ে একসময় মানসিকভাবে এতটাই চাপে পড়েছিলেন যে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানালেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।

এক অনুষ্ঠানে নিজের ক্রিকেটজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে কোহলি বলেন, দ্রুত সাফল্য ও জনপ্রিয়তা অনেক সময় খেলোয়াড়দের সীমাবদ্ধ করে দেয়। তাঁর মতে, তরুণ ক্রিকেটারদের শুধুমাত্র ছোট ফরম্যাট বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে লক্ষ্য না করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করা উচিত।

কোহলির কথায়, শুরুতেই ঠিক করতে হবে— শুধুই দ্রুত সাফল্য চাই, নাকি দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেট বিশ্বে নিজের জায়গা তৈরি করতে চান। তিনি বলেন, ২০ বলে দ্রুত রান করে পরিচিতি পাওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘ কেরিয়ার গড়তে হলে মানসিক শক্তি, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

কেন নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ আসে অধিনায়কত্ব নিয়ে তাঁর মন্তব্যে। কোহলি জানান, প্রথমে তিনি দলের ব্যাটিংয়ের মুখ ছিলেন, পরে নেতৃত্বেরও মুখ হয়ে ওঠেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝতে পারেননি এই দায়িত্ব তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কতটা চাপ তৈরি করছে।

তাঁর স্বীকারোক্তি, “অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময়ে মনে হয়েছিল আমার মধ্যে আর কিছু বাকি নেই।” তিনি জানান, দল জিতলেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন, আবার ভালো খেলেও দল হারলে দায়— এই দুইয়ের চাপে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়েছিল।

এই সময় তিনি এক ধরনের আত্মসন্দেহ বা ‘ইমপস্টার সিনড্রোম’-এর মধ্যেও ভুগেছিলেন বলে জানান। তাঁর ভাষায়, অনুশীলনের সময়ও মনে হতো তরুণ ক্রিকেটাররা তাঁকে দেখছে এবং তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন কি না, সেই চাপ কাজ করত।

এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পাশে ছিলেন তৎকালীন কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর। কোহলি জানান, তাঁদের সমর্থন ও বোঝাপড়াই তাঁকে আবার ক্রিকেট উপভোগ করার জায়গায় ফিরিয়ে আনে।

একই সঙ্গে আধুনিক ক্রিকেট নিয়ে নিজের ভাবনাও জানিয়েছেন তিনি। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করলেও তাঁর বার্তা পরিষ্কার— শুধু বড় শট নয়, কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ গড়ার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কোহলির এই স্বীকারোক্তি আবারও সামনে আনল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ, প্রত্যাশা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন