১০০ কেজিতেও ‘ফিট’! বুমরাহ-হর্ষিত বিতর্কের পর দল নির্বাচনে বড় বদল আনছে BCCI

বুমরাহ ও হর্ষিত রানার ফিটনেস নিয়ে বিতর্কের পর ক্রিকেটার বাছাইয়ে আরও কড়া হতে চলেছে BCCI। বিশেষ চিহ্ন থাকা খেলোয়াড়দের ফের ফিটনেস পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বিকল্প বাছাইয়ের নিয়ম আসছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতীয় ক্রিকেটে চোট ও ফিটনেস নিয়ে একের পর এক বিতর্কের পর এবার কড়া অবস্থান নিতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)। ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং দল নির্বাচনের নিয়মে বদল আনার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর। সাম্প্রতিক সময়ে ফিট ঘোষণার পরেই একাধিক ক্রিকেটারের চোটে ছিটকে যাওয়া এবং নির্ধারিত ফিটনেস মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই বোর্ডের এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে।

ফিটনেস নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। জশপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) ফিট ঘোষিত হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। একইভাবে ফিট সার্টিফিকেট পাওয়ার পর মাঠে নেমে ফের চোট পেয়েছিলেন হর্ষিত রানা (Harshit Rana)। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের প্রকৃত ফিটনেস কতটা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হর্ষিতকে ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছিল তাঁর ওজন নিয়ে। সূত্রের দাবি, ইংল্যান্ড সফরের আগে তাঁর ওজন প্রায় ৯৭ কেজি ছিল। অথচ বোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী তা ৯৬ কেজির বেশি হওয়ার কথা নয়। তারপরও তিনি ফিট সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ইংল্যান্ড সফরে মাঠে নেমেই চোট পাওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে শুধু হর্ষিত নন, বুমরাহর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা সামনে আসে। ফিট ঘোষণা এবং ম্যাচে ফেরার মধ্যে সময়ের ব্যবধান খুব কম থাকায় চোটের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর পরেই ক্রিকেটারদের ফিটনেস মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোর্ডের অন্দরে গুরুত্ব পেয়েছে বলে খবর।

আফগানিস্তান সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে বুমরাহ ও হর্ষিতের পাশাপাশি দীর্ঘদিন চোটের কারণে বাইরে থাকা ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar) এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি (Nitish Kumar Reddy)-ও জায়গা পেয়েছেন। তবে চার ক্রিকেটারের নামের পাশে বিশেষ চিহ্ন থাকায় তাঁদের ফিটনেস নিয়ে ফের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, এই ধরনের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ফিটনেস নিয়ে আরও এক ধাপ সতর্ক হতে চাইছে বোর্ড। কোনও খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার আগে তাঁর সম্পূর্ণ ফিটনেস নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হবে। অর্থাৎ শুধু কাগজে-কলমে ‘ফিট’ সার্টিফিকেট নয়, মাঠে নামার মতো অবস্থায় ক্রিকেটার রয়েছেন কি না, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য।

নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ চিহ্ন থাকা ক্রিকেটারদের ফের ফিটনেস পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে। পরীক্ষায় কোনও ক্রিকেটার উত্তীর্ণ না হলে তাঁর পরিবর্তে বিকল্প ক্রিকেটার বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে নির্বাচকদের হাতে। এতে দল ঘোষণার পরেও চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে বড় সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমবে বলে মনে করছে বোর্ড।

এই ব্যবস্থার আরও একটি সুবিধা হল সময়। সাধারণত সিরিজ শুরুর অন্তত ২১ দিন আগে দল ঘোষণা করা হলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের হাতে ফিট হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে। সেই সময়ের মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রেখে শেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন নির্বাচকরা।

তবে ‘২০০ শতাংশ ফিট’ থাকার মতো কঠোর মানদণ্ড বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ক্রিকেটে চোটের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু ফিটনেস পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দল নির্বাচনের আগে আরও কঠোর যাচাই চালু হলে সাম্প্রতিক বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব কি না, সেদিকেই এখন নজর ভারতীয় ক্রিকেটমহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন