মৌখিক আশ্বাসের পর শেষ মুহূর্তে ‘না’! মন্দিরতলায় ধর্নার অনুমতি বাতিল, ক্ষোভ বঞ্চিতদের

নবান্নের কাছে মন্দিরতলায় ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর শান্তিপূর্ণ ধর্নার পরিকল্পনা ছিল বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারাদের। শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিল করল পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: নবান্নের দোরগোড়ায় শান্তিপূর্ণ ধর্না কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে ধর্নার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি হাওড়া সিটি পুলিশ।

৩১ অগস্টের চিঠিতে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) জানিয়েছেন, ওই সময়ে একাধিক সরকারি কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ফলে মন্দিরতলায় প্রস্তাবিত ধর্না কর্মসূচি অনুমোদন করা সম্ভব নয়।

পুলিশের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত CA Examination এবং ২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত HS Rabindra Open Schooling-এর মতো একাধিক কর্মসূচিতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এর পাশাপাশি বাবা বাগেশ্বর ধামের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, VIP ও Nabanna নিরাপত্তার মতো নিয়মিত দায়িত্বও রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মন্দিরতলা অত্যন্ত জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। তার উপর নবান্নের অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় ওই এলাকায় কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ২ ও ৩ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত ধর্না কর্মসূচি অনুমোদন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে আগের কথোপকথনে তাঁরা ধর্নার অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস পেয়েছিলেন। সেই কারণেই শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। সংগঠনের তরফে এখনও কর্মসূচি প্রত্যাহারের কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক শুভদীপ ভৌমিকের অভিযোগ, ‘‘পুলিশ পুরো পাল্টিবাজ। আমাদের সঙ্গে কথোপকথনে অনুমতির কথা জানিয়েছিল। পরে শেষ মুহূর্তে ৩১ অগস্ট সকালে মেল করে অনুমতি বাতিলের কথা জানানো হয়।’’

তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কার নির্দেশে পুলিশ বেঁকে বসল, জানি না।’’ শুভদীপের দাবি, তাঁদের উদ্দেশ্য কোনও সংঘাত তৈরি করা নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নের সভাঘরে বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েই এই শান্তিপূর্ণ ধর্নার ডাক দেওয়া হয়েছে।

মন্দিরতলা এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে অবশ্য আগেও আইনি টানাপড়েন হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) একাধিক ক্ষেত্রে নবান্নের সামনে বা তার আশপাশে সরাসরি ধর্নার অনুমতি না দিয়ে বিকল্প স্থান হিসেবে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে কর্মসূচির সুযোগ দেওয়ার নজির রেখেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও আদালত নবান্নের সামনে ধর্নার পরিবর্তে নির্দিষ্ট শর্তে মন্দিরতলায় কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল।

ফলে এবার মন্দিরতলাতেও অনুমতি না মেলায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চান এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ও ন্যায্য অধিকারের স্থায়ী সমাধান চান। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে, নাকি অনুমতি না থাকলেও আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামবেন—সেদিকেই এখন নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর