৬ বছর পর সুশান্তের ম্যানেজার দিশার রহস্যমৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, বড় শর্ত বম্বে হাইকোর্টের

সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের ২০২০ সালের মৃত্যু মামলায় CBI তদন্তের নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত করা যাবে না।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত (Sushant Singh Rajput)-এর প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের (Disha Salian) মৃত্যু মামলায় বড় নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের। ২০২০ সালের সেই রহস্যমৃত্যুর তদন্ত এবার করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। বুধবার বিচারপতি সারং কোতওয়াল ও বিচারপতি রণজিৎ সিংহ ভোঁসলের ডিভিশন বেঞ্চ CBI-কে এফআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁর অভিযোগ ছিল, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হয়নি এবং পরিবারের তরফে গুরুতর অভিযোগ তোলা হলেও মুম্বই পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। সেই আবেদনের শুনানি শেষে এবার তদন্তভার CBI-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, CBI-এর মুম্বই রিজিয়নের জয়েন্ট ডিরেক্টর একজন অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেবেন। ওই আধিকারিক সতীশ সালিয়ানের বক্তব্যও রেকর্ড করবেন এবং তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মুম্বই পুলিশকে মামলার যাবতীয় নথি CBI-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্তও দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তে পর্যাপ্ত উপাদান ও যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ভিত্তি না পাওয়া পর্যন্ত কাউকেই অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। অর্থাৎ এফআইআর দায়ের বা CBI তদন্তের নির্দেশকে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমান বলে ধরা যাবে না।

২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বইয়ের মালাড এলাকায় একটি বহুতল থেকে দিশার মৃত্যু হয়েছিল। মুম্বই পুলিশের তদন্তে সেই সময় ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। পরে দিশার পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয় এবং নতুন করে তদন্তের দাবি জানানো হয়।

দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান মেয়েকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে এফআইআর এবং CBI তদন্তের দাবি জানানো হয়। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতও কোনও ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেনি।

দিশার মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন পরেই সুশান্ত সিং রাজপুতেরও মৃত্যু হয়। ২০২০ সালের ১৪ জুন বান্দ্রার বাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। দুই ঘটনার সময়ের নৈকট্যের কারণে পরবর্তী সময়ে দিশা ও সুশান্তের মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনও অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে প্রমাণিত নয়।

এই মামলায় আদিত্য ঠাকরের নাম নিয়েও অতীতে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে বম্বে হাইকোর্টের বর্তমান নির্দেশে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তদন্তে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকেই অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে ছয় বছর পর শুরু হতে চলা CBI তদন্তেই এখন নজর—দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন