‘ছবিতে কে কাজ করবে সেটা কেউ ঠিক করে দেবে’, স্ক্রিনিং কমিটি নিয়ে বিস্ফোরক অঙ্কুশ

স্ক্রিনিং কমিটি ও ছবি মুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরার। টলিপাড়ার পুরনো ‘ব্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে ফের বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে সরকার বদলের পর টলিপাড়ার তথাকথিত ‘ব্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এর মাঝেই স্ক্রিনিং কমিটি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে টলিউডের ছবি মুক্তির পুরনো প্রক্রিয়া।

একসময় বাংলা ছবির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ ও সংঘাত এড়াতে গঠন করা হয়েছিল একটি স্ক্রিনিং কমিটি। সেই সময়ের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নন্দনে বৈঠক ডেকে টলিপাড়ার একাধিক প্রযোজক, অভিনেতা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করেছিলেন।

ওই কমিটিতে ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস, পিয়া সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। পাশাপাশি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব এবং জিৎ-ও সেই কমিটির অংশ ছিলেন বলে জানা যায়।

অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলা সেন অভিনীত ছবি ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’-এর মুক্তি নিয়েও সেই সময় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মূলত বড়দিন ও সরস্বতী পুজোর সময় একাধিক বাংলা ছবির মুক্তি ঘিরে সংঘাত তৈরি হওয়ায় স্ক্রিনিং কমিটির পরামর্শ মেনেই ছবির মুক্তির তারিখ বদলাতে হয়েছিল বলে ইঙ্গিত দেন অভিনেতা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অঙ্কুশ বলেন, “একটা সময় মনে হচ্ছিল, গল্প নিয়ে এখানে যেতে হবে, ওখানে যেতে হবে, কে কাজ করবে সেটা কেউ ঠিক করবে, তারপর বলা হবে ছবি রিলিজ করতে পারব কি না। তাই ভেবেছিলাম এ বছর আর কাজই করব না।”

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে টলিপাড়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিনেতার বক্তব্যে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের চাপ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলেই দাবি নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের। ইতিমধ্যেই রুদ্রনীল ঘোষ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়-এর মতো ব্যক্তিত্বরা জানিয়েছেন, টলিপাড়ায় আর ‘ব্যান সংস্কৃতি’ চলবে না।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন আর আগের সেই নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং কমিটি ছবি মুক্তির সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলেও ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর। ফলে আগামী দিনে বাংলা ছবির মুক্তি ও প্রযোজনার ক্ষেত্রে নতুন নীতি কী হয়, এখন সেদিকেই নজর টলিপাড়ার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত