দায়িত্ব নেওয়ার পরই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে গিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। রবিবার ISL-এর কলকাতা ডার্বি দেখতে গিয়ে যুবভারতীর সামনে থাকা বিতর্কিত মূর্তি সরানোর ঘোষণা করলেন তিনি। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মূর্তিটিকে “অদ্ভুত” এবং “বিদঘুটে” বলেও কটাক্ষ করেন মন্ত্রী।
রবিবার যুবভারতীতে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তাপস রায় এবং কল্যাণ চৌবে-ও। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নিশীথ বলেন, “একটা কাটা পায়ের উপর ফুটবল রাখা হয়েছে। এমন অদ্ভুত মূর্তির কোনও অর্থই নেই। আমার তো মনে হয়, এই মূর্তি বসানোর পর থেকেই আগের সরকারের খারাপ সময় শুরু হয়েছিল।”


এখানেই থামেননি মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “তারপর মেসি কাণ্ড হল, সরকারও চলে গেল। তাই এই মূর্তিটা পরিবর্তন করা হবে।”
যুবভারতীর মূর্তিকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি এদিন ফের উঠে আসে তথাকথিত ‘মেসি কাণ্ড’-এর প্রসঙ্গও। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে লিওনেল মেসি কলকাতায় এলে যুবভারতীতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার জেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন মেসি। তাঁকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একাংশ ভাঙচুরও চালান।
সেই ঘটনার জেরে আয়োজক শতদ্রু দত্ত-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম জানিয়েছিলেন, টিকিট কেটেও যারা মেসিকে দেখতে পাননি, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। যদিও সেই প্রক্রিয়া নিয়ে পরে আর স্পষ্ট কোনও আপডেট মেলেনি।


এই প্রসঙ্গে নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলিকে বলে দিয়েছি, সাধারণ দর্শকদের টাকা ফেরত দিতেই হবে। না হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।”
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, মেসির সফরের সময় ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গোটা ঘটনার ফাইল পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুবভারতী ও মেসি-কাণ্ড নিয়ে নতুন সরকারের এই অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।







