ডার্বি ড্র হলেও অপ্রতিরোধ্য মোহনবাগান! ISL-এ এখনও অধরা ইস্টবেঙ্গলের জয়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

৮৪ মিনিট পর্যন্ত যুবভারতী যেন লাল-হলুদ উৎসবে ভাসছিল। এডমুন্ড লালরিনডিকার গোলে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যেতেই গ্যালারিতে শুরু হয়ে গিয়েছিল শিরোপার স্বপ্ন দেখা। মনে হচ্ছিল, দুই দশকের অপেক্ষার অবসান আর সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কিন্তু কলকাতা ডার্বির নাটকীয়তা শেষ বাঁশির আগ পর্যন্ত থামে না। শেষ মুহূর্তে জেসন কামিংসের হেডে সমতা ফিরিয়ে মোহনবাগান দেখিয়ে দিল, তারা এখনও লড়াইয়ে বেঁচে আছে। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হলেও আইএসএল খেতাবের দৌড়ে এখনও এগিয়ে ইস্টবেঙ্গলই।

এই ড্রয়ের ফলে সমীকরণ এখন স্পষ্ট। শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে হারাতে পারলেই প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হবে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে মোহনবাগানকে এখন নিজেদের ম্যাচ জেতার পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে ইস্টবেঙ্গলের ফলের দিকেও।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। প্রথম ১০ মিনিটেই দু’টি ভালো সুযোগ নষ্ট করে মোহনবাগান। সাহাল আব্দুল সামাদ এবং টম অলড্রেড সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি।

প্রাথমিক চাপ সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ইস্টবেঙ্গল। ১৫ মিনিটে আন্তন সোজবার্গের শট পোস্টে লাগে। এরপর বিপিন সিং এমন একটি সুযোগ নষ্ট করেন, যা ডার্বির ইতিহাসে বহুদিন মনে রাখা হবে। বিশাল কাইথকে একা পেয়েও শট নিতে দেরি করে ফেলেন তিনি।

প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসো, সোজবার্গ— সকলেই সুযোগ পান। কিন্তু গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। বিশেষ করে ইউসেফ এজেজারি নামার পর লাল-হলুদের আক্রমণের ধার অনেক বেড়ে যায়। ৬৬ মিনিটে পরপর দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচান বিশাল কাইথ ও টম অলড্রেড।

অন্যদিকে মোহনবাগানের আক্রমণে ছন্দের অভাব স্পষ্ট ছিল। জেমি ম্যাকলারেন, সাহালদের গতি ও বোঝাপড়া ঠিক জমছিল না। বাধ্য হয়ে দিমিত্রি পেত্রাতোস এবং পরে জেসন কামিংসকে নামান কোচ সের্জিও লোবেরা।

৭৮ মিনিটে ম্যাকলারেনকে বক্সে ফাউল করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, কেভিন সিবিলে বলের উপর পড়ে যান। অনেকের মতে, সেই পরিস্থিতিতে পেনাল্টিও হতে পারত।

অবশেষে ৮৪ মিনিটে তিন পাসের দুরন্ত মুভে গোল পায় ইস্টবেঙ্গল। ইউসেফ এজেজারির পাস থেকে মিগুয়েল, আর তাঁর বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে দেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। এগিয়ে যায় লাল-হলুদ শিবির।

কিন্তু গোলের পর অতিরিক্ত উল্লাসই যেন কাল হল ইস্টবেঙ্গলের। কিছুটা মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলে তারা। সেই সুযোগই কাজে লাগায় মোহনবাগান। ৯০ মিনিটে রবসন রবিনহোর কর্নার থেকে ব্যাকহেডে গোল করে সমতা ফেরান জেসন কামিংস।

শেষ মুহূর্তে আরও গোলের সুযোগ এসেছিল দুই দলের কাছেই। কিন্তু প্রভসুখন গিল এবং দুই রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর গোল হয়নি।

ম্যাচ শেষে অবশ্য ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাস। কারণ, ভাগ্য এখনও তাঁদের হাতেই। অন্যদিকে মোহনবাগানের মুখে স্পষ্ট হতাশা— কারণ এখন আর সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত