ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে—এসে প্রচার করুন। একই মঞ্চ থেকে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি।
মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে তৃণমূল প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরের দিনই ফলতায় বিজেপির প্রচারসভায় শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভায় ভোট। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে সভা করে শমীক বলেন, “আমরা চাই সোয়া এক লক্ষ ভোটে জয়।” একইসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে প্রচারে নামতে কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন না—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কটাক্ষের সুরে শমীক বলেন, “পুলিশ নেই, কনভয় নেই—তাই নেতা নেই! আপনি আসুন ফলতায়, আমরা ফুল দিয়ে স্বাগত জানাব।” এমনকি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হে বীর, তোমাকে আমরা মিস করছি—এসো।”
গত লোকসভা নির্বাচনে এই ফলতা থেকেই এক লক্ষের বেশি লিড পেয়েছিলেন অভিষেক। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে তৃণমূলের ‘নীরবতা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সাম্প্রতিক ফলাফলের পর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আর মাঠে নামছেন না।


একই মঞ্চ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে শমীক বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। এই দেশটাকে নিজের দেশ ভাবুন, বিজেপি আপনাদের পাশে আছে।” পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, “যাঁরা বাড়াবাড়ি করছেন, আমাদের বাধ্য করবেন না আপনাদের ভাষায় জবাব দিতে।”
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। বলেন, “সব বাধা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, কিন্তু আজ তৃণমূলের মাঠ ফাঁকা।” নাম না করে আবারও অভিষেককে কটাক্ষ করে বলেন, “যাঁরা লড়াইয়ের কথা বলেছিলেন, তাঁরা এখন ঘরে বসে শ্যাডো প্র্যাকটিস করছেন।”
তৃণমূল নেতৃত্বকে খোলাখুলি রাস্তায় নেমে প্রচার করার আহ্বানও জানান শমীক। তাঁর দাবি, বিজেপির তরফে কোনও বাধা বা আক্রমণ হবে না। তবে একইসঙ্গে দৃঢ়ভাবে বলেন, “তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না—যতই অসম্ভব ঘটনা ঘটুক না কেন।”
শেষে কর্মসংস্থান নিয়েও প্রতিশ্রুতি দেন বিজেপি নেতা। বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে আর পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা থাকতে হবে না। ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভিনরাজ্যে যেতে না হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি কখনও পুলিশকে নির্দেশ দেব না, দল আর সরকার আলাদা ভাবেই চলবে।”
ফলতা কেন্দ্র ঘিরে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ যে ভোটের আগেই উত্তাপ বাড়িয়ে তুলেছে, তা স্পষ্ট—এখন নজর ২১ মে-র ফলাফলের দিকে।







