দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থেকে শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বড় বার্তা দিল বিজেপি। বিদেশে কিংবা দেশের অন্য প্রান্তে থাকা বাঙালি উদ্যোগপতি ও শিল্পপতিদের বাংলায় ফিরে এসে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিচয় এবার বদলাবে। নতুন শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলতে চায় বিজেপি সরকার।
রবিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। সেই আবহেই ফলতার মাটিতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।


দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে শমীকের বক্তব্য, “পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিচয় এবার মুছে ফেলতে হবে।”
তিনি জানান, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি শিল্পপতি, ইঞ্জিনিয়ার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের বাংলায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাঁর দাবি, বহু বাঙালি বর্তমানে বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করছেন বা সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলার শিল্পোন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় বিজেপি।
ফলতার সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকেও তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, “পরবর্তী নির্বাচনের পর তৃণমূল বলে কোনও দল আর থাকবে না।”


কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং মুর্শিদাবাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজ্যে বিজেপির প্রতি মানুষের সমর্থন দ্রুত বাড়ছে। ফলতাতেও সেই পরিবর্তনের হাওয়া বইবে বলেই আত্মবিশ্বাসী তিনি।
নাম না করে তৃণমূল নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে শমীক বলেন, “আমরা বলছি আসুন, প্রচার করুন। আমাদের কর্মীরা শাঁখ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানাবে। কিন্তু তাঁরা আসছেন না।”
একইসঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদলের কথাও বলেন তিনি। বিজেপি ঘৃণা বা আগ্রাসনের রাজনীতি করতে চায় না বলেও দাবি করেন শমীক ভট্টাচার্য। তবে অতীতের রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচারের কথাও ভুলে না যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে ১ লক্ষের বেশি ভোটে জেতানোর ডাক দেন শমীক। তাঁর কথায়, “১ লক্ষ ভোটে জেতান, সব কাজ করিয়ে নেবেন।”
সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। শমীকের দাবি, আগামী ১ জুন থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে আগের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ পাঠানো হবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



