রাজধানী এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, তার মধ্যেই ফের আগুন লাগল আরেক যাত্রীবাহী ট্রেনে। সোমবার সকালে বিহারের সাসারাম জংশনে দাঁড়িয়ে থাকা ভাবুয়া-সাসারাম-পাটনা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের একটি কোচে আচমকাই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন যাত্রীরা।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাসারাম-পাটনা ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি তখন ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগেই একটি বগি থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। একটি কোচ পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে খবর। পাশের আরও একটি বগিও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পরই যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামিয়ে আনা হয়। প্ল্যাটফর্মে চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা আহতের খবর মেলেনি। রেল পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে কীভাবে এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল ও রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর ঠিক একদিন আগেই তিরুঅনন্তপুরম-হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসেও আগুন লাগার ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পশ্চিম মধ্য রেলের কোটা ডিভিশনের লুনি রিছা ও বিক্রমগড় আলোট স্টেশনের মাঝে রাজধানীর বি-১ কোচে আগুন লাগে। ওই কোচে তখন ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন।
রেল সূত্রে জানা যায়, বি-১ কামরার এসএলআর প্রান্তে প্রথম আগুনের ফুলকি দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গেই বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোচ ট্রেন থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
পরপর দু’দিনে দুই ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গরমের মরশুমে শর্ট সার্কিট ও বৈদ্যুতিক ত্রুটির সম্ভাবনা বাড়ায় রেলকে আরও সতর্ক হওয়ার দাবি তুলছেন যাত্রীরা।



