মাঠে তিনি এখনও রানমেশিন। আইপিএলে ব্যাট হাতে আগুন ঝরাচ্ছেন। তবুও তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থামছে না। এর মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে জল্পনা বাড়ালেন বিরাট কোহলি। ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় জানালেন, টেস্ট ক্রিকেট থেকে তাঁকে সরে দাঁড়াতে কার্যত বাধ্য করা হয়েছিল। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ, সমালোচনা, বিশ্বকাপ এবং নিজেকে প্রমাণ করা নিয়ে একাধিক খোলামেলা মন্তব্য করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘চেজমাস্টার’।
সাদা বলের ক্রিকেটে বিরাট কোহলি যে এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার, তা চলতি আইপিএলেই আবার প্রমাণ করে চলেছেন তিনি। কমলা টুপির দৌড়েও রয়েছেন। তবুও তাঁকে ঘিরে প্রশ্ন কমছে না। বিশেষ করে কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।


সম্প্রতি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর একটি পডকাস্টে মায়ান্তি ল্যাঙ্গারের সঙ্গে কথোপকথনে বিরাট একাধিক বিষয়ে মুখ খোলেন। সেখানেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজেকে বারবার প্রমাণ করার কোনও প্রয়োজন তিনি আর অনুভব করেন না।
কোহলির কথায়, “আমাকে এতবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আমি ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলব কি না। কেন আমি সব ছেড়ে দেব? কেন বলব আমি জানি না আমি কী চাই? আমি এখনও খেলতে চাই। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা সবসময়ই অসাধারণ অনুভূতি।”
বিশ্বকাপের সময় বিরাটের বয়স হবে প্রায় ৩৯। ফলে ফিটনেস এবং ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একইসঙ্গে ভারতীয় দলে তারুণ্যের উপর জোর দিতে গিয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে গৌতম গম্ভীর কোচ হওয়ার পর রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে।


তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন বিরাট। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সেঞ্চুরি করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখনও বড় মঞ্চে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর সেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ঘিরে, যেখানে তিনি জানান, কিছু সিদ্ধান্ত তাঁর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যদিও সরাসরি কারও নাম নেননি বিরাট, তবে ক্রিকেটমহলের একাংশ মনে করছে, টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়েই সেই মন্তব্য।
সব মিলিয়ে বিরাটের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার, তিনি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার মানসিকতায় নেই। বরং আগামী বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজেকে দেখতে চাইছেন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা।







