রাজ্যে নারী নির্যাতনের একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তকারী আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্দেশখালি, কসবা, বগটুই-সহ নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া একাধিক অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে এই তদন্ত কমিটি। তদন্তের দায়িত্বে থাকবেন দময়ন্তী সেন।


সরকারি সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে এই কমিটি। তার আগে বিভিন্ন মামলা সংক্রান্ত তথ্য ও নথি সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।
দময়ন্তী সেনের নাম ফের সামনে আসতেই রাজ্য প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ১৯৯৬ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ ও কড়া তদন্তকারী হিসেবে পরিচিত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন তিনি।
কলকাতা পুলিশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন দময়ন্তী। পরে স্পেশাল কমিশনার পদেও কাজ করেন। ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার তদন্তে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছিল।


তবে পরবর্তী সময়ে তাঁকে বড় তদন্ত থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলেই প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের চারটি ধর্ষণ মামলার তদন্তে তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিল। রসিকা জৈন মৃত্যুরহস্যের তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
২০২৩ সালে তাঁকে কলকাতা পুলিশ থেকে রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষণ শাখায় বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি এডিজি ও আইজিপি পদমর্যাদায় কর্মরত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারী নির্যাতনের পুরনো অভিযোগগুলিকে সামনে এনে নতুন সরকার প্রশাসনিক বার্তা দিতেই এই কমিটি গঠন করেছে। এখন দেখার, বহু চর্চিত সেই মামলাগুলিতে নতুন তদন্ত কতটা অগ্রগতি আনে।







