রাতভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতা, বিশৃঙ্খলা আর ক্লান্তির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হল ‘সারেগামাপা’ খ্যাত মেদিনীপুরের শিশুশিল্পী অঙ্কনা দে। সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলা চিঠি লিখে শিল্পীদের নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করা এবং রাতের শো নিয়ে কঠোর নীতির দাবি জানিয়েছে সে। ছোট্ট শিল্পীর এই আবেগঘন পোস্ট ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নেটমাধ্যমে।
৪ মে রাজ্যের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে শিল্পীমহলের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছে মেদিনীপুরের অঙ্কনা দে।
চিঠির শুরুতেই নিজের জেলার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছে অঙ্কনা। সে লিখেছে, “আমি মেদিনীপুরবাসী হিসেবে গর্বিত। আমার জেলার মানুষ আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আরও বেশি ভালো লাগছে, কারণ তাঁর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।”
এরপরই একজন শিল্পী হিসেবে রাতের অনুষ্ঠানগুলিতে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরে অঙ্কনা। তার দাবি, অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে শুরু ও শেষ হলে শিল্পী থেকে শুরু করে বাদ্যযন্ত্রী— সকলেই কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পান। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলতে থাকে, যার ফলে শিল্পীদের পাশাপাশি মিউজিশিয়ানদেরও চরম ক্লান্তির মধ্যে কাজ করতে হয়।
অঙ্কনা আরও জানিয়েছে, রাত ১১টার পর শুরু হওয়া অনুষ্ঠানগুলিতে সুস্থ ও স্বাভাবিক শ্রোতার সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়। অনেক সময় শিল্পীদের এমন গান পরিবেশন করতে হয়, যেগুলি গাইতে তাঁরা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। এছাড়াও গভীর রাতে আয়োজকদের একাংশের বেসামাল আচরণের কারণে ছোটখাটো বিষয় থেকেও অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয় বলেও অভিযোগ করেছে সে।
শিশুশিল্পীর বক্তব্য, দেরিতে অনুষ্ঠান শেষ হলে ভোররাতে শিল্পীদের ফিরতে হয়। সেই সময় গাড়িচালকদের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অঙ্কনা দাবি করেছে, গত ১২ মে একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় তারাও বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পড়তে রক্ষা পেয়েছিল।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি আর্জি জানিয়ে অঙ্কনা লিখেছে, “এই পরিবর্তনের জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিন। রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় আমার মেদিনীপুরে। তাই এই পরিবর্তনও শুরু হোক আমার গর্বের মেদিনীপুর থেকেই।”
ছোট্ট শিল্পীর এই খোলা চিঠি ইতিমধ্যেই শিল্পীমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও সময়সীমা নিয়ে এবার প্রশাসনিক স্তরে নতুন ভাবনা শুরু হতে পারে।



