‘ব্যান কালচার’ নিয়ে বিস্ফোরক রুদ্রনীল-রূপা! নন্দনে টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা

নন্দনে বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে টলিউডে ‘ব্যান কালচার’, স্বৈরাচার ও ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রুদ্রনীল ঘোষ ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দনের চত্বরে তখন সিনেমাপ্রেমীদের ভিড়, পোস্টারের সামনে ছবি তোলা আর নতুন ছবিকে ঘিরে উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই সাংস্কৃতিক আবহের মাঝেই টলিউডের ভবিষ্যৎ, ‘ব্যান কালচার’ এবং ইন্ডাস্ট্রির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ ও অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ‘প্রত্যাবর্তন’ এবং ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে এদিন নন্দনে তৈরি হয় অন্যরকম রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আবহ।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি বলেন, “এতদিন যেভাবে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, সেটা আর চলবে না। শিল্পী বাঁচলে তবেই শিল্প বাঁচবে।” তাঁর কথায়, গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের মতো স্বচ্ছ ও সমান সুযোগের পরিবেশই এবার টলিউডে প্রয়োজন।

অভিনেতার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। তিনি ইঙ্গিত দেন, কেউ যদি আবার পুরনো “স্বৈরাচারী” পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরেই নতুন সংঘাত তৈরি হবে।

অন্যদিকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় খানিক সংযত হলেও স্পষ্ট বার্তা দেন। নতুন সরকার আসার পর টলিউডে কী পরিবর্তন হতে পারে, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “অনেক কাজ বাকি রয়েছে। নন্দনের স্ক্রিন থেকে সাউন্ড সিস্টেম— দীর্ঘদিন সেগুলোর ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।”

রূপা আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য। অর্থাৎ শুধুমাত্র সমালোচনায় নয়, বাস্তব পরিবর্তনের দিকেও এবার নজর দিতে চাইছেন তাঁরা।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে তাঁদের মন্তব্য। গত কয়েক বছরে টলিউডের একাধিক শিল্পী অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁদের কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই রুদ্রনীল বলেন, “যারা ব্যান কালচার এনেছিল, মানুষই তাদের ব্যান করে দিয়েছে।”

এই মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তেই চর্চা শুরু হয় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে। রূপাও একই সুরে বলেন, “এবার এমন মানুষদের দায়িত্ব দেওয়া হবে যারা পক্ষপাতদুষ্ট নয়। কেউ একা রাজত্ব করবে না, সবাই মিলে কাজ করবে।”

তাঁদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘স্বৈরাচার’ শব্দটি। আর সেই শব্দ ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে টলিউডে।

এদিন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও মুখ খোলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। আমরাও চাই দ্রুত সত্য সামনে আসুক। সত্যের জয় হবেই।”

নন্দনের সেই সন্ধ্যায় তাই শুধু সিনেমার প্রচার নয়, উঠে এল টলিউডের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, পরিবর্তনের বার্তা এবং নতুন সাংস্কৃতিক রাজনীতির ইঙ্গিতও। এখন নজর, এই বক্তব্য বাস্তবে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News
-Advertisement-

এই ধরনের আরও খবর

সদ্য প্রকাশিত