রাজ্যে সরকার গঠনের পর এবার নজর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনে। বিজেপির অন্দরমহলের ইঙ্গিত, প্রশাসনিক গতি বাড়াতে দ্রুত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় সিলমোহরের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে সক্রিয় হয়েছে নতুন শাসকদল। প্রথম দফার মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর পূর্ণাঙ্গভাবে বণ্টন হয়নি বলে দলীয় মহলে আলোচনা রয়েছে।


বিজেপি সূত্রের দাবি, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই এগিয়ে রাখা হয়েছে। দলের নির্ধারিত সাংগঠনিক পদ্ধতি মেনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ শুধু প্রশাসনিক প্রয়োজন নয়, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভারসাম্যও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন মুখ বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
একাধিক সূত্রের মতে, দিল্লির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সম্ভাব্য নামগুলির বিষয়ে মতবিনিময় চলছে। বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে আলোচনা করলেও চূড়ান্ত অনুমোদন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্তর থেকেই আসে।


একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— বাইরে থেকে কাউকে এনে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম। বরং রাজ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকেই মন্ত্রী বেছে নেওয়ার দিকেই ঝোঁক রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প, কর্মসংস্থান, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো— এই কয়েকটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম কয়েক মাসের প্রশাসনিক কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে এই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা কত দ্রুত এবং কীভাবে গঠিত হয় তার উপর।
এখন নজর একটাই— কেন্দ্রীয় সম্মতির পর পূর্ণ মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত ঘোষণা কবে আসে এবং কোন কোন নতুন মুখ প্রশাসনের দায়িত্ব পান।



