নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাংলায় ২১ এর ভোট মেটার পর থেকেই গেরুয়া শিবির বারবার দরবার করেছিল ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা নিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার পরে পরেই কেন্দ্রীয় টিম বাংলায় এসেছিল অশান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। তার পর থেকেই একে একে একাধিক কমিটি এসে বাংলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গিয়েছে। রাজ্যের রাজ্যপাল স্বয়ং রাজ্যের কোনায় কোনায় ঘুরে দেখে এসেছেন বাস্তব চিত্র।
আরও পড়ুনঃ জলমগ্ন একবালপুর, হাঁটুজলে আটকে গেল প্রার্থী মমতার প্রচার
বাংলা জুড়ে সরেজমিনে তদন্ত করে মানবাধিকার কমিশন রিপোর্ট পেশ করেছিল ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা নিয়ে। তার ভিত্তিতে আদালতের তরফে বলা হয়েছে বাংলার ভোট পরবর্তী মামলায় ঘটা খুন এবং ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত করবেন সিবিআই, এবং বাকি ঘটনার তদন্তের জন্য রাজ্য গঠন করবে সিট। তার ভিত্তিতেই রাজ্যে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা না রেখে নিজেরাই খতিয়ে দেখছেন বীরভূম থেকে বর্ধমানের মামলার পরিস্থিতি এবং সত্যতা।
এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার কমিশনের তথ্য ভুলে ভরা বলে পাল্টা তথ্য নিয়ে শীর্ষ আদালতে হলফনামা জমা দিল রাজ্য সরকার। সরকারের পক্ষের অভিযোগ, মানবাধিকার কমিশনের তথ্য ভুলে ভরা, সমীক্ষার পর এনএইচআরসি এর সমীক্ষায় বলা হয়েছে মোট অভিযোগের মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজ্য পুলিশ, কিন্তু বাস্তবে তা ৫৮ শতাংশ বলে দাবি করা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনের তথ্য ভুলে ভরা, পাল্টা তথ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফ নামা জমা দিল রাজ্য।
হলফনামায় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে পোস্ট পোল ভায়োলেন্সে বাংলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ৮ হাজার ১৫২। এর মধ্যে গ্রেপ্তার আত্মসমর্পণ বা আদালতে জামিন পেয়েছেন ৫ হাজার ১৫৪জন।২ হাজার ৯৮৩ জনকে নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশ এখনো পর্যন্ত অভিযোগ পেয়ে মোট ২ হাজার ৮৭৭টি অভিযোগ খতিয়ে দেখেছে, তার মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৫৬ টি কেস ভুয়ো প্রমানিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার নিয়ে আদালত তা তুলে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর। অপেক্ষাকৃত কম লঘু মামলার তদন্তের জন্য রাজ্যকে সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল রাজ্য পক্ষ। রায়ের বিরোধীতা করে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছে সরকার। যদিও সেই মামলায় আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তার পরেই আজ ফের পাল্টা তথ্য নিয়ে কমিশনের তথ্য ভুকে ভরা এই দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়েছে রাজ্য। সঙ্গে সেখানে ভোট চলাকালীন বাংলায় বারবার বিজেপির অশান্তির তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর।



