নজরবন্দি ব্যুরোঃ ডিএ মামলায় কিছুদিন আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিয়ে DA মামলায় স্যাটের রায়ই বহাল রেখেছে কলকাতা হাই কোর্ট। ৩ মাসের মধ্যে SAT-এর রায় কার্যকর করারও নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। সেই তিন মাসের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ১৯ অগাস্ট। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯ অগাস্টের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘ্যভাতা পাওয়ার কথা রাজ্য সরকারি কর্মীদের। কিন্তু তার আগেই রিভিউ পিটিশন জমা দিল রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুনঃ বামেদের ১৬ টি আসন নিয়ে ১৬৪ বিধায়কের সমর্থন, বুধবারই শপথ নেবেন ‘চাচা-ভাতিজা’।


সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ডিএ বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগে ৩১ শতাংশ ডিএ পেতেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৪ শতাংশ। এদিকে রাজ্যের হাতে আর মাত্র ১০ দিন রয়েছে। কেন্দ্রের মত ৩৪ শতাংশ হারে যদি বকেয়া ডিএ মেটাতে হয়, তাহলে খরচ হবে ২৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের জোগান এই মুহূর্তে নেই বলে খবর। সেই কারনেই সম্ভবত হাইকোর্টকে রায় পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন করল নবান্ন।

নবান্ন সূত্রের খবর, দুটি বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছিল ডিএ দেওয়া নিয়ে। হয় কিস্তিতে ডিএ দেওয়া হবে, না হলে কর্মীদের পিএফের টাকার সঙ্গে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ডিএ দেওয়া হবে নগদে। সেই জন্যে আরও সময় দরকার রাজ্যের। তাছাড়া বকেয়া মেটাতে যে বিপুল টাকা দরকার সেটা নেই রাজ্যের হাতে। সেই কারনেই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অনলাইনে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে রাজ্য।



কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে, ৩ শতাংশ হারে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ডিএ বাড়িয়ে ৩৪% করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার ফলে উপকৃত হচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ৪৭. ৬৮ লক্ষ কর্মচারী ও ৬৮.৬২ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত পেনশন প্রাপকরা। এদিকে রাজ্য সরকারি কর্মীরা এখন ৩ শতাংশ হারে ডিএ পান। অর্থাৎ কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের মহার্ঘ্যভাতার তফাত এখন ৩১ শতাংশ।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA বিশবাঁও জলে, হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন রাজ্যের।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে যে ডিএ বাকি রয়েছে তা এরিয়ার সহ দিতে হবে। এই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ টন্ডন এবং বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চ। পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে সিপিআই’র ভিত্তিতে বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকারের একসঙ্গে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হবে। সেই টাকার অঙ্ক কমবেশি ২৩ হাজার কোটি টাকা।







