TET: ফের ভুয়ো নিয়োগপত্র প্রকাশ পর্ষদের! সিবিআই তদন্তের দাবীতে মামলা হাইকোর্টে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সোমবার ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অব প্রাইমারি এডুকেশন প্রাইমারি টেটে ৭৩৮ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০১৪ সালের প্রাইমারি টেট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে যে ভুল সংক্রান্ত মামলা চলছিল সেই মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু নিয়োগ। কিন্তু সেই নিয়োগের আগেই জট পাকাতে শুরু করেছে। ফের ভুয়ো নিয়োগপত্র প্রকাশ পর্ষদের! সিবিআই হস্তক্ষেপের দাবী।

আরও পড়ুনঃ TET: আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু নিয়োগ, জারি বিজ্ঞপ্তি

নিয়োগপত্রে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি বিজেপি। শুধু তাই-ই নয়, আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তাঁরা। বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, ৭৩৮ জনের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই যারা যোগ্য নয়, তাঁদেরকে ৬ নম্বর আলাদা করে দিয়ে পাশ দেখানো হয়েছে। অথচ ২০ নম্বর দিলেও তাঁরা পাশ করত না। তাঁদের প্যানেলে রাখা হয়েছে। যাদের প্রয়োজন ছিল তাঁদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এমনকি বিজেপির তরফে বিস্ফোরক অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য তাঁদেরকে ভুয়ো নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি উনি বলেন, আবারও করব। আপনি কিছু করার থাকলে করে নিতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাদের নিয়োগ করব না। এতা শুধুমাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ব্রাত্য বসু সম্পূর্ণ ইগোর লড়াইয়ের কারণে পিটিটিআইদের নিয়োগ করেনি। এমনকি ১৭ জনের মৃত্যু অবধি হয়েছে। তারপর বলা হয়েছিল কিছু ছেলের নিয়োগ হবে। পরে সেটাও বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। আমরা দেখলাম লিস্টে কারোর নাম নেই।

TET: ফের ভুয়ো নিয়োগপত্র প্রকাশ পর্ষদের! সিবিআই তদন্তের দাবীতে মামলা হাইকোর্টে
TET: ফের ভুয়ো নিয়োগপত্র প্রকাশ পর্ষদের! সিবিআই তদন্তের দাবীতে মামলা হাইকোর্টে

তাঁদের বক্তব্য, নিয়োগপত্রে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন তাঁরা। পুরো বিষয়টিতে সিবিআই তদন্তের জন্য আর্জি জানাবেন তাঁরা। কারণ, এখানে কোনও নম্বর প্রকাশ করা হয়নি। শুধুমাত্র প্যানেলে কার অবস্থান কোথায় সেটা প্রকাশিত হয়। নম্বর প্রকাশিত হয় না। ১২ সাল থেকে মাণিক ভট্টাচার্য এর নেতৃত্বে যে নিয়োগ হয়েছে সবটাই ভুয়ো বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। ৯৯ শতাংশ সাদা খাতা এবং তাবেদারি করেই নিয়োগ হয়েছে। তিনি চাকরী প্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, এর আগে ৪৭৪ জনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এরপর ৭৩৮ জনের শূন্যপদে নিয়োগের কথা জানিয়েছিল পর্ষদ। সেইমতো এদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হল। চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করার সাত বছর পর নিয়োগ পেলেন চাকরী প্রত্যাশীরা। এবিষয়ে পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগে সময় লেগেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ৭৩৮ জন চাকরী পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছে পর্ষদ। তা নিয়ে শুরু জটিলতা।

গত বছর ১৬,৫০০ শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সেখানে শুধুমাত্র ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছিল। এরপরেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল চাকরীপ্রার্থীরা। দাবী, ২০১৪ সালের টেটে ছয়টি ভুল প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের উত্তরপত্রের পুনরায় মূলায়নের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

২০১৪ সালের প্রশ্নপত্রে ভুলের কারণে যে সমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তাঁদেরকে পরবর্তীতে টেট উত্তীর্ণ ঘোষণা করে আদালত। সেই উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযারে নথী যাচাইয়ের জন্য সময় ধার্য করা হয়। অনলাইনে অসুবিধা হলে অফলাইনে জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

ফের ভুয়ো নিয়োগপত্র প্রকাশ পর্ষদের! প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ বিজেপি 

ফের ভুয়ো নিয়োগপত্র প্রকাশ পর্ষদের! প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ বিজেপি 
ফের ভুয়ো নিয়োগপত্র প্রকাশ পর্ষদের! প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ বিজেপি 

২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশ, ভুল প্রশ্নের উত্তর যারা দিয়েছেন তাঁদের পুরো নম্বর দিতে হবে। এরপরেই নিয়োগ নিয়ে তৎপর হয় পর্ষদ। নভেম্বর মাসে প্রথম তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশ করল পর্ষদ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন