নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাস্তবে টিকা নেই, কলারটিউনে পরামর্শ দেওয়া বন্ধ হোক, এই মর্মে এবার কেন্দ্রকে তোপ দেগেছে দিল্লি হাইকোর্ট। দেশের করোনা মোকাবিলা নিয়ে বারবার কেন্দ্রের মুখ পুড়েছে। একাধিক জায়গা থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রকে ব্যর্থ দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। দিল্লি হাইকোর্ট এর আগেও একাধিক বিষয়ে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে কড়া হাতে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে দেশে। তার পরেই টিকার ঘাটতি নিয়ে কটাক্ষ করেছে গতকাল।
আরও পড়ুনঃ গঙ্গায় বইছে লাশ, যোগী-নীতিশ সহ কেন্দ্র সরকারকে নোটিস মানবাধিকার কমিশনের


দেশ জুড়ে গত কয়েক সপ্তাহে শুধু হাহাকার, নেই অক্সিজেন, নেই বেড। হাসপাতালের বেড বাড়ানো হলেও পর্যাপ্ত হয়নি সেগুলি। সবকিছুকে পিছনে ফেলে দৈনিক সংক্রমণ পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল। তবে এই মুহুর্তে পরিস্থিতি সুস্থ না হলেও কিছুটা কমেছে সংক্রমণের গ্রাফ। গত কয়েক সপ্তাহে সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি ছিলো দিল্লিতে। এই মুহুর্তে কিছু কিছু করে সুস্থ হচ্ছে দিল্লিও। রাজ্য গুলির মতে এই মুহুর্তে সবথেকে বেশি প্রয়োজন টিকার। দিল্লি থেকে বাংলা সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন টিকার জন্য। কিন্তু দেশ জুড়ে বাড়ন্ত টিকা।
নানা জায়গায় দেখা গেছে কোভিদের টিকা নিতে গিয়ে লম্বা লাইন দিয়েও ফিরে আসতে হচ্ছে বহু মানুষকে। রাজ্য গুলিতেও যায়নি পর্যাপ্ত টিকা। আর এই পরিস্থিতিতে এবার কেন্দ্রকে টিকা নিয়ে কটাক্ষ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। সঙ্গে তিরস্কার করা হয়েছে ফোন করলেই দেশ জুড়ে কলারটিউনে ভ্যাক্সিনেসনের বার্তার। বিচারপতি বিপিন সাঙ্ঘি এবং বিচারপতি রেখা পাল্লির বেঞ্চ বলেছে, ‘‘যখনই ফোন করা হচ্ছে, আপনারা বিরক্তিকর মেসেজ শুনিয়ে যাচ্ছেন কে জানে কত ক্ষণ ধরে! অথচ প্রতিষেধক নেই! টিকা দিচ্ছেন না, কিন্তু লোককে বলছেন টিকা নিতে! টিকা না থাকলে নেবেটা কে?’’
তার সঙ্গে বদল আনতে বলা হয়েছে একঘেয়েমি কলারটিউনে। বিচারপতিদের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছেন‘‘দশ বছর ধরে একই মেসেজ বাজাবেন না কি?’’ তার থেকে বদল করুন কলারটিউনের, আর জোগান দিন টিকার। প্রয়োজনে টাকা নিন, তবে টিকার ব্যবস্থা করুন সকলের জন্য। এর পরই বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় রাসায়নিক এবং সার মন্ত্রী। সেখানেও টিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন্দ্র টিকার জোগান বাড়াতে ব্যর্থ কেন, জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান ”আদালত ঠিকই বলেছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের টিকা প্রাপ্য।


কিন্তু বলুন দেখি, আদালত যদি কাল এত পরিমাণ টিকা দিতে বলে, যা কি না উত্পন্নই হয়নি, সে ক্ষেত্রে আমাদের কি গলায় দড়ি দেওয়া উচিত?” যদিও তার উত্তরে অনেকেই বলেছেন সাধারণ মানুষ, অন্যত পদত্যাগ করুন আপনি। তবে দেশ জুড়ে টিকার ঘাটতির প্রসঙ্গে কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সকলের জন্যই পর্যাপ্ত টিকা পয়ায়া যাবে দেশে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করেই এবার কোভ্যাক্সিনের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অন্য সংস্থাকে আওহান জানিয়েছে কেন্দ্র।
ভারত বায়োটেকের সঙ্গে আলোচনা করে উভয়ের সিদ্ধান্তে ঠিক হয়েছে অন্য কোন সংস্থা চাইলে এই টিকা বানাতে পারে। তবে সূত্রের খবর, এই টিকাটি শুধুমাত্র বিশেষ বিএসএল৩ ল্যাবে তৈরি করা সম্ভব। সব সংস্থার কাছে এই ল্যাব নেই, তাই যাদের কাছে আছে এবং যারা আগ্রহী, তারা এই টিকা তৈরি করতে এগিয়ে আসতে পারে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শদাতা এবং নীতি আয়োগের সদস্য ভিকেং জানিয়েছেন, অনেকেই বলছিলেন টিকার অভাব মেটাতে এবং কোভ্যাক্সিনের উত্পাদন বাড়াতে অন্য সংস্থাতেও এর উত্পাদন চালু করা হোক।
বাস্তবে টিকা নেই, তাই সমাধানে কেন্দ্রের তরফে যখন এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ভারত বায়োটেকের সঙ্গে, প্রস্তাবে রাজি ভারত বায়োটেক। সূতের খবর সব ঠিক থাকলে ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল লিমিটেড এবং বিপকোল— এই দুই পিএসইউ (পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং) প্ল্যান্ট এবার ভারত বায়োটেকের সঙ্গে যৌথ ভাবে হাত মিলিয়ে টিকা তৈড়ি করবে দেশে। সেপ্টেম্বর থেকে কোভ্যাক্সিন তৈরি হবে এই দুটি পিএসইউ-তে। য়াকিবলাহ মহল মনে করছে, যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে দেশবাসী এই টিকার আকাল থেকে মুক্তি পাবেন। দেশে বিপুল পরিমাণটিকা উৎপন্ন হওয়ায় বছর ভর টিকা পরিষেবা পাবেন দেশবাসী।







