নজরবন্দি ব্যুরোঃ গঙ্গায় বইছে লাশ, এক দুই করে তিন রাজ্যের গঙ্গার জলে ভেসে আসছে সারি সারি মৃতদেহ। আতঙ্ক আর ভয় রাজ্যবাসীর। বাংলায় ঢোকার আগেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে মমতার সরকার। নাকা চেকিং থেকে লকগেট সর্বত্র চলছে কড়া নজরদারি। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছে মৃতিদেহ গুলি করোনা রোগীদের। আর তাতেই আরও বেশি করে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। এবার তা নিয়েই নোটিস পাঠালো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
আরও পড়ুনঃ টিকায় টান, সংকট মেটাতে কোভ্যাক্সিন তৈরিতে অন্য সংস্থাদের ডাক কেন্দ্রের


করোনার দ্বিতিয় ঢেউয়ের ভয়াবহতায় এতোদিন ধরে দেশবাসী সাক্ষী ছিলো গণচিতার। হুহু করে বেড়ে যাওয়া করোনার সামনে অসহায় গোটা দেশ। বহু চেষ্টাতেও লাগামে আনা যায়নি দেশের সংক্রমণ। একদিন আক্রান্তের গ্রাফ কমে তো পরের দিন লাফিয়ে বাড়ে পরিসংখ্যান। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু মিছিল। দেশের একাধিক রাজ্যে শ্মশান, কবর স্থান ভর্তি, চুল্লি টানতে পারেনা দিনের এত মৃতদেহ। জায়গায় অভাবে প্যাকেট বন্দি দেহ পড়ে থাকে পার্কিং লটে। এই ভয় আর আতঙ্কের ছবি নিয়ে বেঁচে আছে একটা গোটা দেশ। তার মাঝেই নতুন আতঙ্কের চিত্র গত কয়েকদিন ধরেই।
নদীতে ভেসে আসছে পচাগলা মৃতদেহ, কোথাও নদীর চরে পোঁতা সার সার মৃতদেহ। গত কয়েকদিন ধরেই এই আতঙ্কের ছবি ফুটে উঠেছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ জুড়ে। কারণ খুঁজে ওঠার আগেই একই চিত্র ফের মধ্যপ্রদেশেও। কয়েকদিন আগেই বিহারের বক্সারে গঙ্গার পাড়ে ভেসে আসা পচাগলা দেহ নিয়েও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ৭১ টি মৃতদেহ ভেসে এসেছিল জলে। বক্সারে যে দেহগুলি পাওয়া গিয়েছিল, সোমবার তা নিয়ে সন্দেহও প্রকাশ করেছিল বিহারের প্রশাসন। একাংশের দাবি ছিল, সম্ভবত উত্তরপ্রদেশ থেকে মৃতদেগুলি ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর সেগুলিই এসে ঠেকেছে বিহারে।
সেই তদন্তের কিনারা হওয়ার আগেই যোগী রাজ্যের গঙ্গা দিয়েও বয়েছে একই ভাবে মৃতদেহের সার। গত ১১ই মে উত্তর প্রদেশে গঙ্গায় দেখা যায় শতাধিক মৃতদেহ, অভিযোগ সেখানেও শেষ কয়েকদিন ধরে গঙ্গায় ভেসে আসছে ‘করোনা রোগী’-র দেহ। পচাগলা দেহ জমা হচ্ছে নদীর পাড়ে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এগুলি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, এমন মানুষের দেহ। শ্মশানে পোড়ানোর স্থান নেই, কাঠের জোগান নেই তেমন, সেই কারণেই গঙ্গায় মৃতদেহ ভাসিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। সেই দেহই ভেসে আসছে পাড়ে। একই চিত্র গতকাল দেখা গেছে মধ্যপ্রদেশেও।


একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে সরকারের কাছে এবার জবাব চাইলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গতকাল, বৃহস্পতিবার মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বিহার-উত্তরপ্রদেশ-মধ্যপ্রদেশ সরকারকে। নোটিস দেওয়া হয়েছে একন্দ্র সরকারকেও। এই ঘটনা এবং তার মোকাবিলা নিয়ে কী ভাবছে কেন্দ্র সরকার তার উত্তর দিতে বলা হয়েছে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।
গঙ্গায় বইছে লাশ, কমিশনের তরফে নোটিস গেছে যোগী এবং নীতিশ সরকারের মুখ্যসচিবের কাছে। নোটিস গেছে কান্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রকের কাছেও। সূত্রের খবর ঘটনায় কেন্দ্রকে ভর্তসনা করেছে মানবাধিকার কমিশন। তাদের মতে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ সরকার। তার সঙ্গে সকলকে সচেতন করে তুলতে পারেনি বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। এবনহ জানতে চাওয়া হয়েছে ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপ কী?







