টিকায় টান, সংকট মেটাতে কোভ্যাক্সিন তৈরিতে অন্য সংস্থাদের ডাক কেন্দ্রের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ টিকায় টান, বিধ্বস্ত গোটা দেশ। সারা দেশ জুড়ে গত কয়েক সপ্তাহে শুধু হাহাকার, নেই অক্সিজেন, নেই বেড। হাসপাতালের বেড বাড়ানো হলেও পর্যাপ্ত হয়নি সেগুলি। সবকিছুকে পিছনে ফেলে দৈনিক সংক্রমণ পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল। তবে এই মুহুর্তে পরিস্থিতি সুস্থ না হলেও কিছুটা কমেছে সংক্রমণের গ্রাফ। গত কয়েক সপ্তাহে সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি ছিলো দিল্লিতে। এই মুহুর্তে কিছু কিছু করে সুস্থ হচ্ছে দিল্লিও।

আরও পড়ুনঃ লড়াই করে আনতে হচ্ছে পিএম কিষাণের প্রাপ্য টাকা, পাশে থাকার বার্তা দিয়ে কৃষকদের চিঠি মমতার

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪৩,১৪৪ নতুন করোনার কেস এসেছে এবং ৪০০০ আক্রান্ত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে, করোনার কাছ থেকে ৩,৪৪,৭৭৬ জন সুস্থ হয়েছেন। রাজ্য গুলির মতে এই মুহুর্তে সবথেকে বেশি প্রয়োজন টিকার। দিল্লি থেকে বাংলা সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন টিকার জন্য। কিন্তু দেশ জুড়ে বাড়ন্ত টিকা।  ১৩ ই মে অবধি সারা দেশে ১৭ কোটি ৯২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫৭৪ করোনার ডোজ দেওয়া হয়েছে। আগের দিন ২০ লাখ ২৭ হাজার ১৬২ টি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল। কেন্দ্র থেকে ঘোষণার পরেও এখনো রাজ্য গুলিতে ১৮ উর্দ্ধের সকলের জন্য টিকাকরণ শুরু করা যায়নি, টিকা পাননি ৪৫ বছরের উর্দ্ধের সকলেও।

গোটা দেশ জুড়ে দেখা যাচ্ছে  টিকার কারণে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ফিরে আসছেন মানুষ। পাচ্ছেন না টিকা। অনেকেই প্রথম ডোজ নেওয়ার পর আর দ্বিতীয় ডোজ পাননি। দেশ জুড়ে টিকার আকালের সময়ে টিকা উৎপাদনের জন্য আরও বেশি কারখানা তৈরি এবং প্রয়োজনে বাংলায় জমি দেবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতে শুধু টিকা আছে এই মুহুর্তে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিনের। রাশিয়ার স্পুটনিক ভি-ও দেশে এসেছে, জলদি শুরু হবে তার টিকাকরন। তবে তাতেও মিটবেন না আকাল।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করেই এবার কোভ্যাক্সিনের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অন্য সংস্থাকে আওহান জানিয়েছে কেন্দ্র। ভারত বায়োটেকের সঙ্গে আলোচনা করে উভয়ের সিদ্ধান্তে ঠিক হয়েছে অন্য কোন সংস্থা চাইলে এই টিকা বানাতে পারে। তবে সূত্রের খবর, এই টিকাটি শুধুমাত্র বিশেষ বিএসএল৩ ল্যাবে তৈরি করা সম্ভব। সব সংস্থার কাছে এই ল্যাব নেই, তাই যাদের কাছে আছে এবং যারা আগ্রহী, তারা এই টিকা তৈরি করতে এগিয়ে আসতে পারে।

টিকায় টান, সংকট মেটাতে কোভ্যাক্সিন তৈরিতে অন্য সংস্থাদের ডাক কেন্দ্রের, এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শদাতা এবং নীতি আয়োগের সদস্য ভিকেং জানিয়েছেন,  অনেকেই বলছিলেন টিকার অভাব মেটাতে এবং কোভ্যাক্সিনের উত্‍পাদন বাড়াতে অন্য সংস্থাতেও এর উত্‍পাদন চালু করা হোক। কেন্দ্রের তরফে যখন এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ভারত বায়োটেকের সঙ্গে, প্রস্তাবে রাজি ভারত বায়োটেক।  সূতের খবর সব ঠিক থাকলে ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল লিমিটেড এবং বিপকোল— এই দুই পিএসইউ (পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং) প্ল্যান্ট এবার ভারত বায়োটেকের সঙ্গে যৌথ ভাবে হাত মিলিয়ে টিকা তৈড়ি করবে দেশে।  সেপ্টেম্বর থেকে কোভ্যাক্সিন তৈরি হবে এই দুটি পিএসইউ-তে। য়াকিবলাহ মহল মনে করছে, যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে দেশবাসী এই টিকার আকাল থেকে মুক্তি পাবেন। দেশে বিপুল পরিমাণটিকা উৎপন্ন হওয়ায় বছর ভর টিকা পরিষেবা পাবেন দেশবাসী।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন