নজরবন্দি ব্যুরোঃ লড়াই করে আনতে হচ্ছে পিএম কিষাণের প্রাপ্য টাকা, বাংলার কৃষক ভাইদের ১৮ হাজার টাকা কই? রাজ্যে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক মাসে বিজেপির সকল নেতা মন্ত্রীরা বাংলায় নির্বাচনী প্রচার কালে বারবার দাবি করেছিলেন রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই শুরু হবে পিএম কিষাণ প্রকল্প। তাতে সুবিধা পাবে বাংলার সকল কৃষক ভাইয়েরা। উলটে অভিযোগ উঠেছিল অবিজেপি রাজ্যের ব্যবস্থার কারণেই কৃষকদের ঘরে ঘরে পৌছয়নি ওই টাকা। কৃষকদের ঘরে ইচ্ছা করেই সাহায্য পৌঁছতে দেয়নি বল এবিষয়ে মমতাকে ‘সংকীর্ণমনা’ও বলেছিলেন কেন্দ্রের নেতা মন্ত্রীরা।
আরও পড়ুনঃ করোনার টিকা কে জ্যামের সঙ্গে তূলনা করে দেশ জুড়ে সমালোচনার মুখে অমিত মালব্য!
তবে বাংলায় নির্বাচন জেতেনি বিজেপি। উলটে ফিরে এসেছে সেই আগে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতাই। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরের দিনই প্রধানমন্ত্রীকে চঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যে ওই প্রকল্প শুরু করার, এবং কৃষকদের ওই ১৮ হাজার করে টাকা দেওয়ার। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি সরাসরি লিখেছেন, ‘রাজ্যে বার বার এসে আপনি বলেছেন, প্রত্যেক কৃষককে ১৮ হাজার করে টাকা ভাতা দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও রাজ্যের কোনও কৃষক সেই ভাতা পাননি। তাই আমি অনুরোধ করছি যত দ্রুত সম্ভব পিএম কিষাণ প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকদের টাকা দেওয়া হোক ও ২১ লক্ষ ৭৯ হাজার কৃষকের তথ্য প্রকাশ করা হোক’।
তবে প্রধামন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে যেমন টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তার পরই গতকাল রাজ্যের কৃষকদের উদ্দ্যেশ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন কৃষকদের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন তিনি। এখন দেখার কবে সেই টাকা আসে তাঁদের হাতে। সঙ্গে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে পাওয়া সুবিধা তাঁর দরবারের জন্যই, সেকথাও বলেছেন। কৃষকদের উদ্দ্যেশ্যে চিঠিতে মমতা লিখেছেন, ”আপনাদের প্রাপ্য ছিল ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু পাচ্ছেন অনেক কম। এইটুকুও পেতেন না যদি না আমরা আপনাদের হয়ে লড়াই করতাম। আপনারা চিন্তা করবেন না। আপনাদের প্রাপ্য বকেয়া আদায়ের জন্য আমরা সর্বদা লড়াই করব। ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।”
লড়াই করে আনতে হচ্ছে পিএম কিষাণের প্রাপ্য টাকা, তার সঙ্গে চিঠিতেই তিনি তুলনা করেছেন রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সঙ্গে কেন্দ্রের পিএম কিষাণ যোজনার। যেখানে তিনি তুলনা করে বলেছেন কেন্দ্রের এই প্রকল্প থেকে রাজ্য সরকারের টাকায় চলা কৃষক বন্ধু প্রকল্প অনেক বেশি কার্যকরী। উল্লেখ্য আগের দিন মোদীকে পাঠানো পত্র বোমাতেও তিনি দুই প্রকল্পের তুলনায় কৃষক বন্ধু সম্পর্কে লিখেছিলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ৫৭ লক্ষ ৬৭ হাজার কৃষকের দেওয়ার জন্য ১ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কৃষকদের মৃত্যুর পরে ভাতা হিসেবে ২৪২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।



