বিশবাঁও জলে শিক্ষক নিয়োগ! মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হতেই ফের মামলা হাইকোর্টে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষক নিয়োগ বিশবাঁও জলে! রাজ্য সরকার উদ্যোগী হতেই ফের মামলা হাইকোর্টে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিকে নিয়োগের ব্যাপারে সচেষ্ট হতেই নড়ে চড়ে বসে শিক্ষা দফতর। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ডিএলএড ট্রেনিংপ্রাপ্ত টেট পাশ করা চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের প্রথম ধাপ। এদিকে এই উদ্যোগ ফের থমকে যেতে বসেছে বেনিয়মের অভিযোগে। আজ জনৈক মফিকুল ইসলাম মামলা করেছেন কলকাতা হাইকোর্টে। মামলাটি গৃহীত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ শরীর গরম হলে ধর্ষণ কর! মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বেলাগাম মন্তব্য অগ্নিমিত্রা-র।

আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন তাঁর মক্কেল মফিকুল মামলা করেছেন কারন তিনি টেট কোয়ালিফায়েড। ২০১৪ সালে তিনি টেট পরীক্ষায় বসেন। ২০১৪ সালে ভুল প্রশ্নের কারনে সবার নাম্বার অ্যাডযাস্ট করা হয়। সেখানে অকৃতকার্য হন মফিকুল। পরে ২০১৭ সালে তিনি আবার টেট পরীক্ষায় বসার জন্যে প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত টেট পরীক্ষা হয়নি! পরে ২০১৯ সালে কেন্দ্রের সি-টেট কোয়ালিফাই করেন মফিকুল।

মফিকুলের অভিযোগ, রাজ্য সরকার যে নিয়োগ করতে চলেছে তা অই ২০১৪ সালে ভুল প্রশ্নের ব্যাচ থেকেই! তাঁরপ্রশ্ন কেন ২০১৭ সালে পরীক্ষা নেওয়া হল না। যদি পরীক্ষা হত তিনি নিশ্চিতভাবেই কোয়ালিফাই করতেন কারন তিনি কঠিনতম কেন্দ্রের সি-টেট পাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে রাজ্যের পরীক্ষা আরো সহজ। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, “সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে শিক্ষক নিয়োগে তাঁদেরকেই সুযোগ দিতে হবে যারা বেস্ট। কিন্তু ২০১৪ সালে ভুল প্রশ্নের টেট হওয়ার পর ২০১৭ সালে আর পরীক্ষাই হয়নি! কিন্তু নিয়োগ করা হচ্ছে ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষা থেকে। এটা নিয়ম বিরুদ্ধ, নতুন পরীক্ষা গ্রহন করে তবেই নিয়োগ করা উচিত!” মামলার শুনানি হবে শুক্রবার অর্থাৎ পরশু, বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের এজলাসে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্বচ্ছ ও দ্রুত নিয়োগের দাবি নিয়ে অনশনও করেছেন পরীক্ষার্থীরা। হয়েছে অনেক আন্দোলন। অভিযোগ কানে আসার পর গত ১১ই নভেম্বর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, প্রাথমিকে প্রায় ২০ হাজার পরীক্ষার্থী টেট পাশ করেছে। ১৬ হাজার ৫০০ আসন আছে। তিনি জানিয়েদেন ডিসেম্বর মাস থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দিষ্ট করা ডিসেম্বর মাস আসার আগেই নিয়োগ নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছে পর্ষদ। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, তাঁদের পোর্টালে ধাপে ধাপে প্রার্থীকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রথমে দিতে হবে টেটের রোল নম্বর, জন্ম তারিখ। এরপর বাকি সব কিছু ফিল আপ করতে হবে। সাবমিট করার সর্বোচ্চ সময়সীমা ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ। পর্ষদের চেয়ারম্যান মাণিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ হবে নিয়ম মেনে। নিয়োগের আগে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। পর্ষদ সূত্রে খবর টেট পাশ করা প্রার্থী রয়েছেন ৮০ হাজার এদের মধ্যে যারা ২ বছরের ডিএলএড কোর্স করেছেন তারাই সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে ১৬ হাজার ৫০০ টি শূণ্যপদে নিয়োগ করতে বেশি সমস্যা হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত