নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিগত কয়েক দিন ধরে সিকিমে তান্ডবলীলা চালাচ্ছে তিস্তা। শুক্রবার তবু কিছুটা শান্ত হয়েছে তিস্তা। তবে জলের স্রোতে ভেসে আসছে দেহের পর দেহ। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৩৮। চলছে উদ্ধারকার্য। ৭৮ জন এখনও নিখোঁজ। জল কমতেই ভেসে উঠছে সেনাবাহিনী কঙ্কালসার গাড়ি। সব মিলিয়ে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত সিকিমের একাংশ।
আরও পড়ুনঃ বানভাসি সিকিমে এখনও খোঁজ নেই শতাধিকের, চলছে উদ্ধারকার্য, মৃত ১২
মেঘভাঙা ভারী বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা সিকিমের। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে হড়পা বান কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে উত্তরের এই ছোট্ট রাজ্যকে। জলের স্রোতে ১৪টি সেতু ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রচুর। বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন প্রায় ৩ হাজারের বেশি পর্যটক। তাছাড়াও নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ২৩ জন সৈনিকের খোঁজ মিলেছে। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা স্থিতিশীল।

সিকিমের মুখ্যসচিব বিজয় ভূষণ পাঠক বলেন, ‘৭০০ থেকে ৮০০ গাড়িচালক আটকে রয়েছেন। ৩,১৫০ জন মোটরসাইকেল আরোহীও আটকে বিপর্যস্ত এলাকায়। সেনা এবং বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
সিকিম পুলিশের ডিআইজি তাশি ওয়াঙ্গেল বলেন, “১০ নম্বর জাতীয় সড়কের মেতামতের কাজ চলছে। মাল্লি, বুরদাং, লিকুভিড়, শ্বেতীঝোড়ায় কাজ চলছে।” পূর্ব সিকিমের হেল্প লাইন নম্বর ৮৭৫৬৯–৯১৮৯৫ এবং উত্তর সিকিমের হেল্প লাইন নম্বর ৮৭৫০৮–৮৭৭৪১।

তিস্তা কিছুটা শান্ত, তবে ভেসে আসছে দেহের পর দেহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮
অন্যদিকে তিস্তার জল যত নেমে এসেছে তত দেহ ভেসে উঠেছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়। গাজলডোবা, ময়নাগুড়ি, কোটওয়ালি, কুচলিবাড়ি, হলদিবাড়ি ও মিলনপল্লি এলাকায় একাধিক দেহ উদ্ধার হয়। আবার বাংলাদেশের গালিবান্ধায় নানা মৃতদেহ ভেসে ওঠে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে লাচেন এবং লাচুংয়ে প্রায় ৩ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




