কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে দাবি করা হচ্ছে, প্রাইভেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্লাস না করে, এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও মিলেছে সার্টিফিকেট। পুরো বিষয়টি হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এখানেই শেষ নয়, প্র্য়োজনে টাকার বিনিময়ে ২-৩ বছর আগের ব্যাকডেটেও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।
নিজাম প্যালেসে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার উপেন বিশ্বাস বর্ণিত রঞ্জন ওরফে চন্দন মণ্ডল। শুক্রবারেই তাঁকে আদালতে পেশ করে সিবিআই। এদিন চন্দন মণ্ডলকে চার দিনের হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আগামী সোমবার অবধি হেফাজতে থাকতে হবে তাঁকে। এদিন তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে চন্দনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সিবিআই সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের ওয়েবসাইটে নাম দেখিয়ে ভুয়ো শংসাপত্র পেশ করে টাকা নিতেন কুন্তল। দেড় মাস আগে হওয়া টেটের ওএমআর শিট মিলেছে কুন্তলের বাড়ি থেকে। তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, দালালের বাড়িতে ওএমআর শিট মিললে দায় সরকারের নয়।
শুক্রবার ২০২২ সালের টেট পরীক্ষার ফলপ্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সাংবাদিক সম্মেলন করে ফল ঘোষণা করেন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল। একেবারে স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা দেখেছি। ফলপ্রকাশের মুহুর্ত অবধি পর্ষদের কাছে ওএমআর সুরক্ষিত বলে জানিয়েছেন তিনি। তাহলে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের বাড়তি চার নম্বর করে দেওয়া হবে, একথা কেন ঘোষণা করল পর্ষদ?
পরীক্ষা দেন প্রায় ৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী। ফল প্রকাশ হলে তা পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট wbbpe.org এবং wbbprimaryeducation.org-এ দেখা যাবে। এদিকে ফলপ্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় যাতে থাকে, সে দিকে জোর দিয়েছে পর্ষদ।
এদিন আদালতের কাছে মানিক ও কুন্তল সম্পর্কে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরল তদন্তকারী সংস্থা। ওএমআর শিটে সাংকেতিক ষড়যন্ত্র ছিল কুন্তল ও মানিকের। আদালতে দাবি করল ইডি। একইসঙ্গে পার্থ মানিকের যুগলবন্দি টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইডি।
জেলে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়। আটমাস শেষে মঙ্গলবার মামলা চলাকালীন হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন তিনি। অর্পিতার দাবি, তিনি নির্দোষ। স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। শুধুমাত্র পেইনকিলার দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য জামিন চাইলেন তিনি। ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করলেন অর্পিতা।